কারফিউতে দুগ্ধ খামারিদের লোকসান প্রায় ৩'শ কোটি 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৯ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংস কর্মকাণ্ড দমনে সারা দেশে শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত ১২টা থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। এতে বিপাকে পড়তে হয় মানিকগঞ্জের দুগ্ধ খামারিদের। কারণ স্বাভাবিক সময়ের অনেক কম দামে দুধ বিক্রি করতে হয় তাদের। ফলে তারা আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়।

জানা যায়, গত ১৯ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনে ২ শত ৯৮ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে খামারিদের। মানিকগঞ্জে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয় ৫০- ৬০ টাকায়। কিন্তু কারফিউ চলাকালে খামারিরা গড়ে দুধ বিক্রি করেছেন ৩০-৩৫ টাকা লিটারে। এতে ওই কয়েক দিন তাদের উৎপাদন খরচও ওঠেনি বলে দাবি করেছেন খামারিরা।   

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা এবং ৬৫ টি ইউনিয়নে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা হচ্ছে ৬ হাজার ১৩৩ টি। এ ছাড়া কৃষকদের বাড়িসহ মোট গাভীর সংখ্যা হচ্ছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮১ শত ১৫ টি। জেলায় দুধ উৎপাদন হয় প্রতিদিন ২ কোটি ৯৮ লাখ মেট্রিক টন। আর জেলায় দুধের চাহিদা রয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত থাকে ৬৭ লাখ মেট্রিক টন দুধ। 

জেলার দরগ্রাম বাজারের দুগ্ধ ব্যাবসায়ী ভীম ঘোষ বলেন, আমি প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার লিটার দুধ কিনে থাকি। আমাদের আশেপাশের বাজারে স্বাভাবিক সময়ে ৫০-৬০ টাকায় লিটারে দুধ কিনে থাকি। কিন্তু গেল শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫ দিন যানবাহন চলাচল না করায় আমি দুধ কিনি নাই। ওই সময় গড়ে ৩০-৩৫ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি হয়েছে। কোন বাজারে এর চেয়ে কম গেছে। বুধবার থেকে যানবাহন চলাচল করবে এমন সংবাদ শুনে দুই দিন দুধ কিনে ছানা তৈরি করে ঢাকায় সরবরাহ করেছি। গেল দুই দিনে তিনি ৫০-৬০ টাকা লিটারে দুধ ক্রয় করেছন বলেও জানান তিনি। 

দুগ্ধ ব্যাবসায়ী ভিম ঘোষের দরদামের তথ্য অনুযায়ী জেলায় শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫ দিন গড়ে প্রতিদিন লিটারে ২০ টাকা কম বিক্রি করলে  ৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আর ৫ দিনে ২ শত ৯৮ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। 

খলিলাবাদ গ্রামের এক খামারি বলেন, আমি প্রতিদিন ১৮ কেজি দুধ বিক্রি করি। গত ৫ দিন আমি ৩৫ টাকা করে বিক্রি করেছি। গরুর খাদ্যের যে দাম বৃদ্ধি হয়েছে। তাতে কারফিউর সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে নাই।

এ ব্যাপারে গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতেই ২/৪ টি গরু লালন পালন করে। আমাদের দুধ বাজারে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয়। যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সময় কোনো দুধের ব্যাবসায়ী দুধ কিনেন নাই। তখন নাম মাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করেছে খামরিরা। 

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। যখন দুধের দাম কম থাকে। বাজারে দুধ বিক্রি না করতে পারলে, এ দুধ দিয়ে দুগগ্ধ জাতীয় খাবার, যেমন মাখন, ঘি, ছানা তৈরি করে বাজারজাত করার জন্য কৃষকদের পরার্মশ দিয়ে থাকি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত