হেলিকপ্টার থেকে গুলি-আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, দাবি র‌্যাবের

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫০ পিএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় প্রতিরোধে আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করা হয়নি। বরং বিভিন্ন ভবনে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছে র‌্যাব।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা প্রতিরোধে হেলিকপ্টার দিয়ে গ্যাস গান ও সাউন্ড গ্রেনেড ফেলা হয়। তবে এই ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে হেলিকপ্টার দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করার অভিযোগে তথ্য ছড়ানো হয়। এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে মুনীম ফেরদৌস বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা গত ১৮ জুলাই সারা দেশে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালীন দুস্কৃতিকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও নাশকতার মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও দেশের আপামর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব ফোর্সেস রাজধানীসহ সারা দেশে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপালনকারী র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপর দুষ্কৃতিকারী ও নাশকতাকারীরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় শতাধিক র‌্যাব সদস্য আহত হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কোমলমতী শিশু-কিশোরদের আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাস্তা অবরোধ করে এবং ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। শিশু-কিশোররা সামনে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। নিরূপায় হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচলের পথ সুগম করার জন্য এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন ও ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এক্ষেত্রে হেলিকপ্টার থেকে কোনো প্রকার গুলি করা হয়নি বা কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। বরং রাজধানীর বাড্ডা ও নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে দুর্বৃত্তরা হামলা ও আক্রমণ করে সাধারণ জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ভবনে অগ্নিসংযোগ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত