ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হন বাবা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় গত রবিবার (২১ জুলাই) আবদুল্লাহপুর রেলগেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আবু বকর ছিদ্দিক শিবলু। চার দিন অজ্ঞান থাকার পর অবশেষে ঢাকার আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে মারা যান। গত বৃহস্পতিবার বিকালে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরেন বড় ভাই আবদুল হাকিম বাবলু, স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার রিমাসহ স্বজনরা। ওই দিন রাতে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁনপুর এলাকায় তাকে দাফন করা হয় তাকে।

ঢাকায় এলিট পেইন্টের সহকারী হিসাব রক্ষক পদে কর্মরত থাকার সুবাদে গত চার বছর ধরে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন শিবলু। ১৬ জুলাই পূর্ব উত্তরা থানায় সংঘর্ষ হলেও অপরপ্রান্তে দক্ষিণখান থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিবলু। উভয় থানায় শরণাপন্ন হয়েও কেউ মামলা নেয়নি। এ কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দাফন করা হয় তাকে। মামলা নেই, আসামি নেই, বিচারও পাবেন না বলে জানান বড় ভাই আবদুল হাকিম বাবলু।

জানা যায়, ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলার  শিবলু দক্ষিণ চাঁনপুর এলাকার ওছি উদ্দিন ভূঞা বাড়ির মৃত আবুল হাসেমের ছোট ছেলে শিবলু। তার দুই শিশু সন্তান। একজন ফারহান ছিদ্দিক (৮ বছর) ও নুসাইবা ছিদ্দিক (১০ মাস)। ফারহান উত্তরা এলাকায় স্থানীয় একটি মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শিবলুর বড় ভাই বাবলু ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

বাড়ির সামনে বসেই কথা হয় আবদুল হাকিম বাবলুর সাথে। প্রথমেই তার মোবাইল ফোনে থাকা একটি ছবি দেখালেন। প্রথম ছবিতে ছেলে ফারহানের সাথে গ্রামের বাড়িতে পাঞ্জাবি পরা হাস্যোজ্জ্বল শিবলু। আরেকটিতে রয়েছে কফিনবন্দি হয়ে।

শিবলুর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার রিমা বলেন, ‘ঘটনার দিন গত ২১ জুলাই রবিবার বিকেলে ছেলে ফারহানকে নিয়ে ঘুরতে বের হন শিবলু। সেখানে আবদুল্লাহপুর রেলগেটে হাঁটাহাঁটির পর দুজনে বসা ছিলেন। তখন গোলমাল শুরু হলে বাসায় যেতে ছেলেকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালে শিবলু গুলিবিদ্ধ হয়। আশপাশের লোকজন তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আগারগাঁও নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠায়।

নিহতের ভাই বাবলু বলেন, রিমার কাছ থেকে খবর পেয়ে ঢাকায় ছুটে যাই। ভাইকে বাঁচাতে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ততক্ষণে ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু একটু একটু করে শিবলুর আঙুল নড়ে উঠায় সবার মধ্যে আশা জেগে উঠে। বুধবার সন্ধ্যার পর ওই নড়াচড়াও থেমে যায়। একপর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

বাবলু আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিবলুর আর জ্ঞান ফেরেনি। এ কারণে তার কাছ থেকে কোনো কিছুই জানতে পারিনি। ওই দিন পূর্ব উত্তরা থানায় সংঘর্ষ হলেও অপরপ্রান্তে দক্ষিণখান থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় শিবলু। উভয় থানায় শরণাপন্ন হয়েও কেউ মামলা নেয়নি। এ কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একমাত্র ভাইটিকে দাফন করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

ইয়াকুবপুর ইউপি মেম্বার জয়নাল আবদীন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শিবলুর লাশ গ্রামের বাড়ি আনা হয়। সেখানে স্বজনদের আর্তনাদে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাত ১০টায় বাড়ির সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত