কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের এবং গ্রেপ্তার সব ছাত্রছাত্রী ও বন্দি সাধারণ মানুষের মুক্তির দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে জোর করে আন্দোলন বন্ধের স্বীকারোক্তি আদায় করছে অভিযোগ করে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার জোটের নেতারা এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাগীব নাঈম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অঙ্কন চাকমা ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) তাওফিকা প্রিয়া।
জোটের নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও বাকের মজুমদারকে চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ডিবি হেফাজতে তুলে নেওয়া হয়েছে। আন্দোলন দমাতে আগেও তাদের গুম করে অত্যাচার করা হয়েছে, নৃশংসভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর তাদের অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রথমবার গুম-নির্যাতনের পরও তারা ছাত্র-জনতার প্রতি এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আপসহীনতার পরিচয় দেন। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এই দৃঢ়তায় ভীত হয়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনী আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে আবারও তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছে।’
এ ছাড়া কারফিউ প্রত্যাহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া, গণগ্রেপ্তার বন্ধ এবং অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা।
একই বিষয়ে আলাদা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। ছাত্র ইউনিয়ন বিবৃতিতে বলছে, “সারা দেশে ‘কোয়ালিটি অ্যারেস্ট’-এর মাধ্যমে ‘কোয়ালিটি স্বৈরাচার’-এ পরিণত হয়েছে সরকার। বিভিন্ন সংস্থা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও সর্বজনীন মৌলিক মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে গুম করে নির্যাতন ও বেআইনি উপায়ে গ্রেপ্তার করছে। এ ধরনের অসাংবিধানিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বৈরাচার পতনের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। হামলা-মামলা, গুম ও গ্রেপ্তার করে গণঅভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না। যত বেশি হামলা-মামলা-গুম-গ্রেপ্তার আসবে, ছাত্র-জনতা তত বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে।”
আর ছাত্র ফ্রন্ট নেতারা বলেন, ‘সরকার আন্দোলন দমাতে ব্লক রেইড করে বাসাবাড়িতে ও মেসগুলোতে তল্লাশির নামে হয়রানি এবং গণগ্রেপ্তার করছে। বিরোধী দল-মতের মানুষের ওপর তীব্র দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আন্দোলন দমাতে সরকার অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। অসংখ্য মানুষ আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছে। সামগ্রিক এ বর্বরতার দায় নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।’ একই সঙ্গে কারফিউ ও সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
