বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল

প্রকৃত অপরাধীদের না পেয়ে বিরোধী দল দমন করছে সরকার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪, ১১:১৬ পিএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রী নেতারা বারবার বলছেন প্রকৃত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রকৃত অপরাধীদের না পেয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমনে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার। তাদের এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বাসা বাড়ির বেলকনি, পড়ার ঘর বা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট সোনামনিরা পর্যন্ত বাদ যায়নি।’

সোমবার বিকেলে দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের দেওয়া চলমান আন্দোলনে নিহতদের নাম ও সংখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এর সংখ্যা অনেক বেশি। কিশোর ও আগে নিহতের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অবিলম্বে সঠিক তালিকা প্রকাশের দাবি জানাই। ছাত্র আন্দোলন সরকারের ক্ষমতার ভীত নড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলন দমনের নামে নিষ্ঠুরভাবে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস চালিয়ে শত শত ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কিংবা আহতরা অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনীর ছোড়া গুলিতে হয়েছেন। পত্রিকার তথ্যমতে, রাজধানীর ৩১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতের সংখ্যা ৬ হাজারের অধিক। সরকারের নির্দেশে মৃতদের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। অনেককে ময়না তদন্ত ছাড়াই আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতনের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা যায়। কিন্তু আবেগ-অনুভূতি এবং সঙ্গীদের রক্ত মাখা শার্টের গন্ধ শিক্ষার্থীদের বিবেককে সবসময় তাড়া করবে। সুযোগ পেলেই তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। গণগ্রেপ্তারের নামে নেতাকর্মীদের বাসায় ছিনতাই ও লুটপাটের দৃশ্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ভয়-ভীতির কারণে দেশব্যাপী সরকারের অত্যাচার এবং নিপীড়ণের সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিভিন্নভাবে পাওয়া তথ্যগুলো রীতিমতো লোমহর্ষক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ছাত্র আন্দোলনের কারণে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে এবং একই সঙ্গে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদেরও ব্লক রেইড দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেককে তুলে নিয়ে গেলেও তাদের খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না। হতাহত ছাত্র-জনতার পরিবারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নির্যাতনের পর আবারও নির্যাতন চালানোর উদ্দেশ্যে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রিয়াদ ইকবাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দেশব্যাপী নিরীহ ছাত্র-জনতা, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পেশাজীবিদেরকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, গুম করে রাখা, নির্যাতনের পর পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া ঘটনা বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত।’

এ পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি ও বিরোধী দলের সকল নেতাসহ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ডে নির্যাতন বন্ধ এবং অবিলম্বে সকলের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বারবার রিমান্ডে নেওয়া এবং অমানবিক নির্যাতন সংবিধান বিরোধী। সর্বোচ্চ আদালতের এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নিম্ন আদালতে ঢালাও রিমান্ড দেওয়া সম্পূর্ণ আইন বিরোধী।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত