কিশোরগঞ্জের হাওরে মাছ উৎপাদনে রেকর্ড

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

হাওরে নানান কারণে দিনের পর দিন মাছের উৎপাদন কমছে। পরিবেশ দূষণ, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, কারেন্ট ও চায়না দোয়ারি জালের ব্যবহারের কারণে মূলত কমছে বিশাল হাওরের মাছ উৎপাদন। তারপরও মৎস্যভা-ার হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জের হাওর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়েছে বলে জানান জেলা মৎস্য অফিস। এ অর্থবছরে মাছ উৎপাদন হয়েছে ২৮০২০.৫২ টন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২৬০.৯২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলায় ৬৪ হাজার ৩০৬ হেক্টর আয়তনের ছোট-বড় ১২২টি হাওর রয়েছে। এসব হাওর থেকে প্রতি বছর মেলে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার টন মাছ। এ ছাড়া প্রচুর শামুক-ঝিনুক উৎপন্ন হয়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৮০২০.৫২ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলায় ৯৪ হাজার ৮৮৭.১৯ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে আহরণের মাধ্যমে উৎপাদন হয়েছে ৪২ হাজার ৭৪১.৩৪ টন, যা মোট উৎপাদনের ৪৪.৪২ শতাংশ। আর চাষের মাধ্যমে এসেছে ৫২ হাজার ৭৪১.৩৪ টন মাছ, যা উৎপাদনের ৫৫.৫৮ শতাংশ। এ সময়ে হাওর থেকে উৎপাদন হয়েছে ২৮ হাজার ০২০.৫২ টন মাছ, যা মোট উৎপাদনের ২৯.৫৩ শতাংশ। আর এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ হাজার ২৬০.৯২ কোটি টাকা।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের হাওরে ৮০ থেকে ১২০ প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। হাওরে মাছের উৎপাদন বাড়াতে জেলায় অনেক বিলে নার্সারি করা হচ্ছে। যেখানে এক থেকে দেড় মাস বয়সী মাছের পোনা লালনপালন করে পুরো বিলে ছাড়া হবে। জেলেদের দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। হাওরে ক্ষতিকর চায়না জালের ব্যবহার, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন, সেচ দিয়ে মাছ শিকার ও জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা। আর জেলায় বছরে মাছের চাহিদা রয়েছে ৭০ হাজার ৫৩০ টন।

হাওর থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন হেমেন্দ্র বর্মণ। তিনি বলেন, ‘হাওর এলাকায় জন্ম আমার। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে হাওরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। হাওরে মাছ না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

সরকার যদি হাওরে কারেন্ট ও চায়না দোয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে পারত, তাহলে আমরা সারা বছর হাওর থেকে মাছ ধরতে পারতাম।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, কারেন্ট ও চায়না দোয়ারি জালের ব্যবহারের কারণে হাওরের মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এর মধ্যেও কিশোরগঞ্জের হাওর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৮০২০.৫২ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। হাওরের মাছ উৎপাদনের এ ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য কারেন্ট ও চায়না দোয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত