ইন্টারনেট বন্ধে ক্ষতি বিশ্ববাজারেই হাজার কোটি

  • দীর্ঘ মেয়াদে বড় ক্ষতির আশঙ্কা
  • কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার ভয়
  • বিদেশি ক্রেতারা অসন্তুষ্ট
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ১১:২০ পিএম

ইন্টারনেট ও ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের কারণে গত দুই সপ্তাহে তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার, এফ-কমার্স, ই-কমার্স খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যারা এই ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। অনেকেরই আয়ের একমাত্র অবলম্বন ফেসবুক ও ইউটিউব।

এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দেশের অন্যান্য খাতে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো- বহু বিদেশি ক্রেতার আস্থা নষ্ট হয়েছে। অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই ক্ষতি কতটা কাটিয়ে ওঠা যাবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় ফোরজি নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরদিন ১৮ জুলাই রাতে বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও। এর আগে বিভিন্ন সময় সংঘাত, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন কেন্দ্র করে এলাকাভিত্তিক ফোরজি সেবা বন্ধ রাখা হলেও এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় দেশ জুড়ে মোবাইল নেট বন্ধ থাকল। পরে ২৩ জুলাই থেকে ধীরে ধীরে ব্রডব্যান্ড উন্মুক্ত করা হয়। টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুলাই বেলা ৩টার দিকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা চালু হয়। ইন্টারনেট চালু হলেও কাঙ্খিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।
 
অন্যদিকে ইন্টারনেট বন্ধের দিন থেকেই ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ ছিল। বুধবার দুপুর থেকে এগুলো আবার চালু করেছে সরকার। 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সফটওয়্যার সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ‘লাইফ লাইন’ হলো ইন্টারনেট। দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধের কারণে সুদূরপ্রসারী বিপুল ক্ষতি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। কয়েক দিন পর এটা বলা যাবে। আনুমানিক কয়েক হাজার কোটি টাকা হবে। কিন্তু বিশ্ববাজারে আইটি খাতে হাজার কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্রেতা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এভাবে ২৫ শতাংশ ক্রেতাও যদি চলে যান, তাহলে তার ধাক্কা সামলাতে লাগবে অন্তত এক বছর।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা “জার্নির” মধ্যে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্ভাবনাময় এই শিল্পটা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সহসা ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষের চাকরি হারানোরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো বিদেশি ক্রেতা হারানোর ঝুঁকি। কারণ দেশের মানুষকে বোঝানো গেলেও বিদেশিদের এই সংকটের কথা বোঝানো যাবে না।’

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আর্থিক ও অন্যান্য ক্ষতির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা হলো নানা রকম গুজবের ডালপালা ছড়াতে পারে মানুষ। ইন্টারনেট বন্ধ করে সাময়িক কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে মনে করা হলেও বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণই বেশি। সুতরাং ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত।

বিশ্ববাজারে আইটি রপ্তানি খাতে বিশাল বাজার রয়েছে যেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। এর মধ্যে সফটওয়্যার সেবা, কলসেন্টার, ফ্রিল্যান্সিংসহ নানা কাজ রয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকার কারণে এই খাতে বড় ক্ষতি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত