দম্ভোক্তি করে মুজাহিদ বলেছিলেন— দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অথচ এর কিছু বছর আগে ২০০৭ সালের অক্টোবরে মুজাহিদ বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। তখনও ছিল না, এখনো নাই।’ আর এ মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিগুলো। এর পরেই দল হিসেবে জায়ামাতের অধপতন শুরু হয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ট্রাইবুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়।

২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কিছুদিন পরেই তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয়। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই বছরের ২১ জুন তার বিরুদ্ধে ৭ অভিযোগ গঠন করা হয়। পরের বছর ১৭ জুলাই জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর আপিলে ফাঁসির রায় বহাল থাকে এবং পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হয়ে যায় ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর। 

যুদ্ধাপরাধের জন্য মোহাম্মাদ মুজাহিদের মতো দলটির শীর্ষ চার নেতাকেই ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মতিউর রহমান নিজামী। ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযাম ৯০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। 

সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সংঘাত-সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের দায়ী করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর জেরে আজ বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) জামায়াত ও শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত