কুবি শিক্ষকদের মানববন্ধনে আসতে বাধা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের 

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০৬:০৫ পিএম

সারাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হত্যা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাধারণ শিক্ষকদের মানববন্ধনে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার ( ১ আগস্ট ) পূর্বঘোষিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করার জন্য শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে আসতে চাইলে কোটবাড়ি, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ক্যাডেট কলেজের সামনে, ছাত্র আন্দোলন চত্বর ( আনসার ক্যাম্প ) মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে বাধা প্রদান করা হয় বলে জানা যায়। শিক্ষকদের অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্তৃক এ সময় তারা বিভিন্ন মোড়ে  শিক্ষার্থীদের মোবাইল চেক করতে দেখে এবং আন্দোলন কেন্দ্রীক কিছু পেলে সেই মোবাইল নিয়ে যেতেও দেখে।

এ বিষয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. খলিফা মোহাম্মদ হেলাল বলেন, “আমরা গণিত বিভাগের তিনজন শিক্ষক মানববন্ধনে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কোটবাড়িতে আসার পর কয়েকজন আমাদেরকে বাধা দেয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে পরিচয় দেই। তারা বলে ভার্সিটি এখন বন্ধ, তাই শিক্ষকরাও যেতে পারবেনা। তারা আমাদেরকে চলে যেতে বলে। আমাদের একজন শিক্ষক প্রক্টরকে কল দেয়। কিন্তু উনি দেখবেন বলে আর কোন সাড়া করেননি। প্রায় এক ঘন্টা আমরা সেখানে অপেক্ষা করি। পরে প্রক্টরকে জানিয়ে সেখান থেকে আমরা চলে আসি।”

বাধা পেরিয়ে মানববন্ধনে আসা নৃবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরিন বলেন, ”মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি সিএনজি করে ক্যাম্পাসে আসছিলাম। পথিমধ্যে কোটবাড়িতে প্রায় দুইশত ছেলের একটা জটলা দেখি। ওরা আমার সিএনজি আটকায়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দেয়ার পরে ওরা আমাকে বাধা দেয়। সিএনজি ঘুরিয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। যখন আমি ফিরে যেতে চাচ্ছিলাম না তখন কয়েকজন আমার দিকে এগিয়ে আসে। কিন্তু ধমক দেয়াতে তারা আর সামনে আসেনি। এরপর অনেক্ষণ চেষ্টা করে আমি তাদের কাছ থেকে ক্যাম্পাসে আসার অনুমতি পাই। কিন্তু আমি আসতে পারলেও আমার অনেক সহকর্মী আজকে চেষ্টা করেও ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। পথে পথে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রক্টর ( ভারপ্রাপ্ত ) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, “আমাকে একজন শিক্ষক ফোন দিয়ে এই অভিযোগ জানিয়েছিল। এরপরই আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি ৷ তারা খোঁজ নিবে বলে জানায়। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি অনেকে কল দিয়েছেন কিন্তু তিনি ( প্রক্টর ) কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এ দিকে বাধা উপেক্ষা করেও মানববন্ধন করেছে শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের  শিক্ষকরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

এ সময় তাঁরা সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হত্যা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন।  পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কর্তৃক পথে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেন। 

এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের অনেক সহকর্মী জানিয়েছেন, কোটবাড়িতে তাঁদের আটকে দেয়া হচ্ছে, তারা শিক্ষক পরিচয় দিয়েও ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি। প্রক্টরকে জানিয়েছেন, তারা আসতে চান, কিন্তু সে ব্যবস্থাও করা হয়নি। আমার প্রশ্ন যারা শিক্ষকদের আটকাচ্ছেন তারা আসলে কারা ? তারা কী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এটা কোন ব্যবস্থার মধ্যে বাস করছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত