সম্মিলিত মোর্চা গঠনের ঘোষণা, শিগগির ‘মার্চ টু ঢাকা’

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৪৩ এএম

বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকে। কারও মাথায় লাল-সবুজ পতাকা, কারও মাথায় লাল কাপড় বাঁধা, কেউ কেউ বুকে দেশের পতাকা বেঁধে, কারও হাতে নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। তাদের সঙ্গে যোগ হয় সাধারণ মানুষও। সায়েন্সল্যাবের মোড়ে জমায়েত ক্রমেই বড় হয়। একসময় সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্লোগান ওঠে।

এমন চিত্র দেখা গেছে, রামপুরা-বাড্ডা, মিরপুর, শান্তিনগর, খিলগাঁও, ভাটারা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায়। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সমবেত হয়েছিলেন সংগীতশিল্পীরা। বেলা ৩টার আগে তারা ‘গেটআপ, স্ট্যান্ডআপ’ যাত্রা করেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে। অন্যসব জায়গায় জমায়েত হওয়া শিক্ষার্থীদের মিছিলও শহীদ মিনারমুখী।

শনিবার এমন জনস্রোত এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিলিত হয়ে তৈরি করেছে জনজোয়ার। সমবেত হাজারো কণ্ঠে ওঠে প্রতিবাদের স্লোগান। হাজার হাজার মানুষের এই সমাবেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবি জানানো হয়।

এক দফা ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা দাবির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। এক দফাটি হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এ সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ এবং সরকারের লুটপাট, দুর্নীতি ও  গণহত্যার বিচার করা।’

সারা দেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

ছাত্র-শিক্ষক-জনতার এ সমাবেশে যোগ দেন প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। শহীদ মিনার চত্বর ও আশপাশের সড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি সারা দেশের প্রায় সব জেলা ও উপজেলায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশ কেন্দ্র করে কয়েকটি জেলায় সংঘর্ষ হয়েছে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নাহিদ ইসলাম আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে প্রায় ১৩ মিনিট বক্তব্য দেন। এতে তিনি এক দফা দাবি, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণার কথা জানান এবং সব শ্রেণি-পেশার সংগঠন নিয়ে সম্মিলিত মোর্চা গঠনের ঘোষণা দেন এবং সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এতগুলো খুন হয়েছে, লাশের হিসাব আমরা এখনো পাইনি। এ সরকার মানুষ খুন করেছে, এখন সে লাশও গুম করেছে। যারা খুন করেছে, তারা খুনি, খুনের বিচার করবে। আমরা তাদের থেকে বিচার প্রত্যাশা করি না। একদিকে নির্যাতন-নিপীড়ন, অন্যদিকে সংলাপের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আজকে কুমিল্লায় হামলা করা হয়েছে, আমার ভাই শহীদ হয়েছে। আমরা শহীদ হতে ভয় পাই না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘আজকে আমরা জানি জনগণের দাবি কী। জনগণের দাবি আমাদের আর বলার প্রয়োজন নেই। সবাই জানে দফা এক, দাবি এক। এক দফা, এক দাবি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জীবনের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এক দফার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। এ জায়গায় এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার থাকে না। শেখ হাসিনা বলেছেন, গণভবনের দরজা খোলা আছে। আমরা সাধুবাদ জানাই, তিনি আগে বুঝতে পেরেছেন গণভবনের দরজা খোলা রাখতে হবে। কারণ তার যাওয়ার সময় হয়েছে।’

নাহিদ বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করলেই হবে না, খুন, দুর্নীতি, লুটপাটের বিচারও হতে হবে। শুধু শেখ হাসিনা নয়, পুরো মন্ত্রিপরিষদ পদত্যাগ করতে হবে। এই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বিলোপ করতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, এমন একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করতে চাই, যেখানে আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিজম স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসবে না।’

জনগণকে ছাত্র নাগরিকের অভ্যুত্থানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ আরও বলেন, ‘পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় সংগঠিত হন। আমরা খুব দ্রুতই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে ছাত্র নাগরিক অভ্যুত্থানের জন্য নাগরিক ছাত্রসংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মিলে সম্মিলিত মোর্চা ঘোষণা দেব। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা শিগগিরই হাজির করব।’

ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে নামারও আহ্বান জানান। কোনোভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করলে, কোনোভাবে কারফিউ, জরুরি অবস্থা দেওয়া হলে তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করবেন বলে জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এবং হলগুলো অযথা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। উপাচার্য, প্রক্টর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া না হলে আমরা নিজ দায়িত্বে খুলে নিয়ে হলে অবস্থান করব।’

পাড়া-মহল্লায় অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই মার্চ টু ঢাকা ঘোষণা করা হবে। সারা দেশের মানুষ ঢাকায় আসবে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ১৬ জুলাই সংঘর্ষে ৬ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ ও সংঘাতে নিহত এবং আহত হন অনেকেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হতাহতের ঘটনায় ৯ দফা দাবি দিয়েছিল।

গতকাল শহীদ মিনারে সামনের সারিতে অন্তত পাঁচজন সমন্বয়ক উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, মাহিন সরকার, আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন, আইনজীবী মানজুর আল মাতীন, অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন।

আন্দোলনকারী-পুলিশের সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান : সায়েন্সল্যাব মোড়ে বেলা ১১টা থেকে অবস্থান নিতে শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী-সমর্থকরা। ১টার মধ্যে বড় হয় জমায়েত। মাথায় লাল-সবুজ পতাকা ও লাল কাপড় বেঁধে, বুকে বাংলাদেশের পতাকা ও হাতে নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের জমায়েত ক্রমেই বড় হয়। তাদের স্লোগানে গলা মেলান পথচারী থেকে শুরু করে রিকশাচালকরাও। অনেকেই চলতি পথে কয়েক মিনিট থেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানান। এই পুরো সময় শ-খানেক পুলিশ সদস্য সেখানে ছিলেন। বাইতুল মামুর জামে মসজিদ মার্কেটের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্যদের মনোভাব ছিল নমনীয়। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কয়েকজন আন্দোলনকারী পানি আর বিস্কুট নিয়ে পুলিশের মধ্যে বিতরণ করেন। এ সময় পুলিশের অধিকাংশ সদস্য স্মিতহাস্যে পানি ও বিস্কুট গ্রহণ করেন। পুলিশ সদস্যদের অনেকেই এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বুক মেলান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল আসাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বল প্রয়োগ করা হবে না।

দুপুর ১টা দিকে জমায়েত আরও বড় হয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন অভিভাবকরা। এতে মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও ধানমন্ডি সাত রাস্তার দিকে যান চলাচল বিঘ্ন ঘটে। ২টা ৩৫ মিনিটে বিশাল এক মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতা শহীদ মিনারের দিকে রওনা হন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের ঝামেলা না হয়, সেজন্য আন্দোলনকারী ও পুলিশ সমঝোতার ভিত্তিতে স্থান ছেড়ে দেয়। তবে মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। কয়েকজন খালি পানির বোতল ছুড়ে মারেন পুলিশের উদ্দেশে। যদিও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন নমনীয়।

রাজপথে শিল্পীরা : দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে সমাবেশ করেছেন দেশের সংগীতশিল্পীরা। এ সময় শিল্পীদের সঙ্গে জড়ো হন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এ সময় শিল্পীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে অংশ নেন।

বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (বামবা) এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে শিল্পীদের বক্তব্যের মাঝেই শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘গেটআপ, স্ট্যান্ডআপ’ বলে স্লোগান তোলেন। সমাবেশ চলাকালেই উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এত দিন আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে পথে না নামার জন্য শিল্পীদের নানা ধরনের প্রশ্ন করেন। এ সময় শিল্পীরা সবাইকে আশ্বস্ত করে জানান, তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন। ৯ দফার সঙ্গেও একমত।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গীতিকবি প্রিন্স মাহমুদ, ব্যান্ড তারকা মাকসুদ, শেখ মনিরুল ইসলাম টিপু, হামিন আহমেদ, সাকিব চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান জিয়া।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ব্যান্ডতারকা, শিল্পী, গীতিকবি ও সুরকারসহ শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানায় আর্টসেল, সোলস, দলছুট, শূন্য, মাইলস, মাকসুদ ও ঢাকা, শিরোনামহীন। উপস্থিত ছিলেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া, এলিটা, গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী, শিল্পী আসিফ আকবর, আরমিন মুসা, মিফতাহ জামান, সুজিত মোস্তফা, নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন প্রমুখ। তারা র‌্যাপার হান্নানের মুক্তি দাবি করেন।

রামপুরা-বাড্ডায় অবরোধ : ১১টায় রামপুরা-বাড্ডা এলাকার সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অবরোধে যোগ দেন ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাদের কর্মসূচিতে কয়েকজন শিক্ষক, অভিভাবক ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি প্রকাশ করতে এসে বক্তব্য দেন। দুপুর ২টার দিকে মেরুল বাড্ডা ও রামপুরা ব্রিজে এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা।

ভাটারা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : প্রগতি সরণিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সকাল থেকে কর্মসূচিতে যোগ দিতে দলে দলে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে হুট করে তারা প্রধান সড়কে নেমে আসেন। এতে কুড়িল বিশ্বরোড, নদ্দা, নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা এলাকায় যানবাহন বন্ধ ছিল।

শান্তিনগরে বড় সমাবেশ : কোটা সংস্কারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শান্তিনগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, শান্তিনগরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ‘আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ আমাদের ওপর আক্রমণ করবে না।’

খিলগাঁওয়ে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা : দুপুরে শিক্ষার্থীরা খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় অবস্থান নেন। নানা স্লোগান দেন তারা। সড়ক অবরোধ থাকায় দুপুর ১২টার কিছু আগে পুলিশের একজন কর্মকর্তা কথা বলার জন্য তাদের দিকে এগিয়ে যান। ওই কর্মকর্তাকে দেখে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া-‘ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। তার দিকে অনেকে তেড়েও যান।

যাত্রাবাড়ীতে বিক্ষোভ : যাত্রাবাড়ীতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সমাবেশ করেন। কিন্তু সেখানে কোনো পুলিশ সদস্যের অবস্থান লক্ষ করা যায়নি। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মিরপুরে বিক্ষোভ : মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে করে মিরপুর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়। দুপুর ১টার পর থেকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে জড়ো হয়ে প্রধান সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। তারা সম্মেলিতভাবে জাতীয় সংগীত গেয়ে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই গলায় পরিচয়পত্র ছিল। তাদের অনেকের মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। কারও কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে দুপুর দেড়টা থেকে মিরপুর-১০ গোল চত্বর এলাকাসহ প্রধান সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের থেকে কয়েক মিটার দূরে মিরপুর-২-এর দিকে পুলিশ অবস্থান নেয়। মিরপুর-১০-এর আশপাশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত