ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে এক দফা দাবির মুখে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানাও রয়েছেন।
বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে, যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নেবেন শেখ হাসিনা, এরই প্রেক্ষিতে সেখানে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন তিনি। তবে এখনও যুক্তরাজ্য থেকে এ বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি।
তবে এসব জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে, সব তথ্য ভুল বলে দাবি জানিয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
জয় বলছেন, শেখ হাসিনা কোথাও আশ্রয় চাননি। এছাড়া শেখ হাসিনা আর রাজনীতি করবেন না বলে আবারও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি জানিয়েছেন জয়, জানিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ছেড়ে বর্তমানে অস্থায়ীভাবে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কোথাও আশ্রয় চাননি’ বলে আজ এনডিটিভিকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তার ছেলে জয়। তিনি বলেছেন, ৭৬ বছর বয়সী হাসিনা অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং এখন তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন ও নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাবেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার আশ্রয় আবেদন, যুক্তরাজ্যের নীরবতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার ভিসা বাতিলের একাধিক প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে জয় বলেন, ‘ শেখ হাসিনার আশ্রয় চাওয়ার প্রতিবেদনগুলো ভুল। তিনি কোথাও আশ্রয়ের জন্য অনুরোধ করেননি। তাই (তার আশ্রয়ের বিষয়ে) যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের এখনও সাড়া না দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’
এর আগে এনডিটিভিকে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, তাদের পরিবার এখন একসাথে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছে - তবে সেটা কোথায় এবং কীভাবে তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ওয়াশিংটনে আছি, আমার খালা লন্ডনে, আমার বোন দিল্লিতে থাকে, তাই আমরা জানি না, তিনি হয়তো এই জায়গাগুলোর মধ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।’
এদিকে শেখ হাসিনার আশ্রয়ের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের যে অভিবাসন আইন অনুযায়ী সেখানে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করে এসে রাজনৈতিক বা সাধারণ আশ্রয় চাওয়ার বিধান নেই।
এর বদলে শেখ হাসিনাকে এখন ভারতেই আশ্রয় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন; তিনি প্রথম নিরাপদ যে দেশে পৌঁছান সেখানেই চাওয়া উচিত।’
অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে বেশিদিন রাখতে চাচ্ছে না ভারত। দেশটি চাচ্ছে, শেখ হাসিনা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অন্য দেশে চলে যান। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত কোনো মন্তব্য করেনি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও মুখ খোলেনি।
২০৫ ভারতীয় নাগরিককে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত, পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু