বিহারে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক উত্তাপ তত বাড়ছে। একে অন্যের প্রতি ততই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছে দলগুলো। এর মধ্যে বিহারে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ নিয়ে সরব ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি বিষয়টি উত্থাপন করেছে। এর কড়া জবাব দিলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি পুরনিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলকে (আরজেডি) ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ মদদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এর জবাবে ওয়াইসি গতকাল বলেন, বিহারে, বিশেষ করে সীমাঞ্চল অঞ্চলে, কোনো বাংলাদেশি নেই। ওই অঞ্চলে গত নির্বাচনে তার দল ভালো ফল করেছিল।
ওয়াইসি বলেন, ‘মোদিজি বলেন, বিহারে বাংলাদেশি আছে। মোদিজি, বিহারে বা সীমাঞ্চলে কোনো বাংলাদেশি নেই। কিন্তু আপনারা তো দিল্লিতে বাংলাদেশ থেকে আসা এক বোনকে বসিয়ে রেখেছেন। তাকে বাংলাদেশে পাঠান। সীমাঞ্চলে নিয়ে আসুন, আমরা তাকে বাংলাদেশে পৌঁছে দেব।’
তার এই মন্তব্য ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এক ধরনের পরোক্ষ বিদ্রূপ। শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পরপরই ক্ষুব্ধ জনতা তার বাসভবনমুখী যাত্রা করলে ঢাকায় থেকে পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন।
অবৈধ অভিবাসন বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা বাসিন্দাদের নিয়ে বহুদিন ধরেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আঞ্চলিক পর্যায়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করতে তৎপরতা জোরদার হয়েছে বিজেপি সরকার।
বিহারে এই ইস্যুটি গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা। কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছে, এটি আসলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যই। কমিশন দাবি করেছে, বিহারে ভোটার তালিকায় কিছু নেপালি, বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকের নাম পাওয়া গেছে
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ প্রসঙ্গ তোলেন মোদি এবং পরে বিহারের নির্বাচনী প্রচারেও একই কথা বলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর পুরনিয়ায় এক সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন যে অনুপ্রবেশের কারণে দেশে ‘জনমিতিক সংকট’ তৈরি হয়েছে।
বিহার নির্বাচন চলতি বছরের শেষ বড় নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের তারিখ আগামী মাসে যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে।
