কী ছিল না প্রায় ৬ কোটি টাকায় নির্মিত বাড়িটিতে। দামি আসবাবপত্র থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি বিলাসী সামগ্রীতে ভরপুর ছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার রোষানলে পড়ে সবকিছু হারিয়ে এক লহমায় ‘রাজকীয় ভবনটি’ নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। গত ২ দিন ধরে লুটপাট থেকে রক্ষা পায়নি দরজা-জানালা, ফ্রিজে থাকা মাছ মাংস আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মেঝ মোছার সামগ্রী, ছাদ বাগানের গাছ পর্যন্ত। এখন বাকি রয়েছে ইট খোলা।
গত ১৫ বছর নেতাকর্মীদের আনাগোনায় রাতদিন জমজমাট ছিল বাড়িটি। এখন ভুলেও সেদিকে পা মাড়াচ্ছেন না। নিরাপত্তার অভাবে শহরে তাদের পদচারণা নেই বললেই চলে। মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কতটা ভয়াবহ তা এক নজর দেখতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল অসংখ্য দর্শনার্থী টাউন হল রোডের ৬ তলার বাড়িটি দেখতে আসছেন।
জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরতলীর রিচি গ্রামের সন্তান আবু জাহির ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারপর যোগ দেন ছাত্রলীগে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতা হন। সাধারণ কৃষকের সন্তান আবু জাহির শহরে বসবাস করার মতো একসময়ে নিজস্ব বাড়িঘর ছিল না। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার জীবনের চাকা ঘুরে যায়। রাতারাতি বনে যান হবিগঞ্জের ‘মুকুটহীন সম্রাট’। গত ১৫ বছরে অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা। দলের সব কর্মকাণ্ড চালাতেন নিজের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে। তার প্রভাব শুধু দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দলীয় সভাপতি হিসেবে হবিগঞ্জের সর্বত্র প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ছড়ি ঘুরাতেন। নিরাপত্তার জন্য ডিবির সদস্যকে বডিগার্ড হিসেবে ব্যবহার করতেন। পুলিশ স্কট ছাড়া তিনি বাসা থেকে বের হতেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তার সাদা রঙের বহুতল বাড়ি থেকে কতিপয় লোক দিনরাত এসি, টিভি, চেয়ার, টেবিল, খাট, শাড়িসহ দামি দামি অন্যান্য জিনিসপত্র হাতে ও মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছেন। জাহিরের বাসা থেকে একটি বিশাল টিভি মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছিলেন জনৈক যুবক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাহির মিয়া বড়লোকের পোলা আছিল না। গরীব মানুষদের ঠকিয়ে সম্পদ বানাইছে। এসবের ওপর আমরার হক আছে।’
অভিযোগ রয়েছে, হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের প্রাসাদ্যেপম বাড়ি থেকে তার ভাড়াটে লোকজন গত ৪ ও ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর ইটপাটকেল ও গুলি করা হয়। এতে নিহত হয়েছেন পথচারী মোস্তাক মিয়া ও রিপন শীল নামে দুই যুবক। এর জের ধরেই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা চড়াও হয় এমপি জাহিরের বাড়িতে। এ সময় পার্শ্ববর্তী সাবেক এমপি আব্দুল মজিদ খানসহ একাধিক বাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্র-জনতা এতই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল যে ৪ আগস্ট গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় অবরুদ্ধ থাকা এমপি জাহির সেনাবাহিনীর সহযোগিতা না পেলে হয়তো প্রাণ নিয়ে বের হতে পারতেন না। আন্দোলনকারীদের কিছুটা শান্ত করার পর তাদের দাবির মুখে বোরকা পড়িয়ে এমপি জাহিরসহ আরও কয়েকজনকে সেনাবাহিনী একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপরেও লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুশফিউল আলম আজাদ গণপিটুনি থেকে রক্ষা পাননি। তিনি বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
জাবির হল খুলেছে, ক্লাস শুরু রবিবার থেকে
‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তি পেলেন মাইকেল চাকমা