কানাডা থেকে ফেরার পর তিন কার্যদিবস পার হলেও কর্মস্থলে যোগ দেননি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি কোথায় আছেন এসইসির কোনো কর্মকর্তাই তা বলতে পারছেন না। শুধু চেয়ারম্যান নন, এসইসির চার কমিশনারের মধ্যে তিনজনই অফিসে আসছেন না। শুধুমাত্র কমিশনার ড. এ টি এম তারিকুজ্জামান নিয়মিত অফিস করছেন, পুঁজিবাজার সামলাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার এসইসিতে গিয়ে চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। এরপর সেদিন দুপুরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সচিবালয়ে আছি। তবে এখানে এসে আমি বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছি। কারণ সচিবালয়ে কাউকে পাচ্ছি না।’
অফিসে আসবেন কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তরে এসইসি চেয়ারম্যান কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বুধবারও তিনি অফিসে আসেননি। গতকাল দুপুর থেকে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গত ২৪ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে সরকারি কাজে এসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনার সামসুদ্দিন আহমেদ ২৮-৩১ জুলাই পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করার কথা। তবে এসইসি চেয়ারম্যান দেশে ফিরলেও কমিশনার সামসুদ্দিন ফেরেননি। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব বিভাগের দায়িত্বে থাকা কমিশনার সামসুদ্দিন কানাডায় রয়ে গেছেন বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে। তাদের দুজনের বিদেশ ভ্রমণের সময়কালে এসইসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কমিশনার ড. রুমানা ইসলামের কাছে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দেওয়া হয়। আর কমিশনার সামসুদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলো অন্য তিন কমিশনারকে ভাগ করে দেওয়া হয়। তবে রুমানা ইসলামও গত মঙ্গলবার সামান্য কিছু সময়ের জন্য অফিসে এলেও বুধবার অফিস করেনি। আরেক কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরীও অফিসে আসছেন না।
চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনারের অফিস না আসা প্রসঙ্গে এসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান স্যার দেশে ফিরলেও অফিসে আসেননি। গতকাল থেকে কমিশনার রুমানা ইসলাম ও মহসিন চৌধুরীও অফিসে আসছেন না।
পাঁচ সদস্যের পুরো কমিশনের মধ্যে নিয়মিত অফিস করছেন কমিশনার ড. এ টি এম তারিকুজ্জামান। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, আমি নিয়মিত অফিস করছি, কোনো অসুবিধা দেখছি না। সবার সহযোগিতায় নিয়মিত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
এদিকে গতকাল এসইসির অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সভার আয়োজন করেছে। সভায় কমিশন সংস্কারের পাশাপাশি যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, কমিশনের অর্থ নয়-ছয়ের তদন্ত দাবি করেন। এছাড়া পুঁজিবাজারের সব আইনের যথাযথ ব্যবহারও চেয়েছেন তারা।
