সরকার দলীয় লোক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে গত ১০ বছরে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন বনবিভাগের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন। সেখানে যোগদানের পর থেকেই তিনি ছিলেন বেপরোয়া। এতদিন ভয়ে অনেকে মুখ না খুললেও আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অনেকে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিট অফিসার হিসেবে কুলাউড়ায় যোগদান করেন রিয়াজ উদ্দিন। পরে ২০১৯ সালে কুলাউড়া থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেলেও ২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে ফের কুলাউড়ায় যোগদান করেন। যোগদানের পর দুই ধাপে তিনি সরকার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গত ১০ বছরে কুলাউড়া রেঞ্জ কার্যালয়কে গাছ পাচার, ঘুস বাণিজ্যসহ চাঁদাবাজির আখড়ায় পরিণত করেন।
মোজাম্মিল হক, খোকন মিয়া, সেলিম মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তার হাত ধরে কুলাউড়ার মনছড়া বিটের সেগুন, গর্জন, চাপাতিসহ বিভিন্ন জাতের মূল্যবান কয়েক কোটি টাকার গাছ রাতের আধারে কাভার্ডভ্যানে করে একটি চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়ে থাকে। এ ছাড়া উপজেলার ২৭টি অবৈধ করাতকল থেকে মাসোয়ারা হিসেবে কয়েক লাখ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন তিনি। এসব বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মামলার হুমকি দিতেন।
তারা আরও জানান, গত মে-জুন মাস থেকে রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজের নির্দেশে উপজেলার বরমচাল বিট অফিসের অদূরে রিজার্ভ ফরেস্টের প্রায় ২ হাজার আকাশ মনি গাছ অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় বনপ্রহরী রতিন্দ্র নারায়ণ, নাজির উদ্দিন নিজে উপস্থিত থেকে কুলাউড়া এবং সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে এই গাছগুলো বিক্রি করেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বনপ্রহরী রতিন্দ্র নারায়ণ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশে তারা গাছগুলো গাড়িতে লোড করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি অসত্য। সেখানে বিট অফিসার রয়েছেন।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
