বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

হতাহতদের সহায়তা দেবে সরকার, তালিকা হচ্ছে

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৪, ১১:৩৫ এএম

ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা ও নীতিমালা প্রস্তুতের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি সহায়তা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের পরিচিতিসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করবে। গতকাল মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের ব্রিফ করার রেওয়াজ থাকলেও গতকাল তা মানা হয়নি। বৈঠক শেষে একজন উপদেষ্টা বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা জানালেও তিনি তা করেননি। প্রধান উপদেষ্টার তথ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে যমুনায় যখন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক চলছিল তখন এর বাইরে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা নিখোঁজদের ফেরত দেওয়ার দাবিতে বসেছিলেন। তাদের হাতে ছিল স্বজনদের ছবি। আবার কেউ এসেছিলেন বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত হওয়ার বিচার চাইতে। তাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র এবং নারী।

উপদেষ্টাদের বৈঠক শেষে যখন একে একে তাদের গাড়ি বের হচ্ছিল তখন ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাওয়ার আশায় গাড়ির সামনে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন বারবার।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে যমুনা থেকে বের হয় ‘মায়ের ডাক’-এর একটি প্রতিনিধিদল। তাদের হাতে ছিল স্বজনদের ছবি যারা বিভিন্ন সময়ে গুম হয়েছেন। এসব স্বজনের ধারণা, তারা আয়না ঘরে বন্দি রয়েছেন।

মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ করেছি, স্বজনদের দ্রুত আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে। সেই সঙ্গে আয়না ঘরের সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।’

‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে বলেছেন, এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে শিগগির প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন’ যোগ করেন সানজিদা।

এর আগে দুপুরের দিকে যমুনা ও রমনা উদ্যানের মধ্যবর্তী সড়ক বেশ কিছু সময় অবরোধ করে রাখেন স্বজন হারানো নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে বিকেলের দিকে যমুনার সামনে একটি মিছিল নিয়ে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সরকার পতনের পর তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলার বিচার দাবি নিয়ে এসেছিলেন। ‘সনাতন অধিকার মঞ্চের’ ব্যানারে তারা দাবি তুলে ধরেন। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিল যমুনা প্রদক্ষিণ করে যায়। কাকরাইল মোড় থেকে এসে মিছিলটি মিন্টো রোড হয়ে শাহবাগের দিকে চলে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত