শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের সময়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় আবেদন করা হয়েছে। 

ষৈম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত সাভারস্থ ডেইরি ফার্ম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আরিফ আহমেদ সিয়াম এর বাবা মো. বুলবুল কবিরের পক্ষে গতকাল বুধবার এ আবেদনটি করা হয়। আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম। এতে অভিযোগটি নথিভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ এর ৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানানো হয়েছে। 

আবেদনে শেখ হাসিনা ছাড়াও আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য,  অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশীদসহ কতিপয় অসাধু র‌্যাব কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এর ৩ (২), ও ৪ (১), ৪ (২) ধারা অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন চলতি মাসের শুরুতে শেখ হাসিনা ও সরকারের পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে পরিণত হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ হতাহত হয়। ছাত্র- জনতার গণঅভ্যূত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই দিন তিনি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা, তার সরকারের মন্ত্রী  ও পুলিশের উর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় করা আবেদনে আইনজীবী বলেন, আন্দোলকারী ছাত্র-জনতাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার হীন উদ্দেশ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনা সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলন প্রতিহত করতে উস্কানিমুলক বক্তব্য দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার নির্দেশনা দেন। 

এতে বলা হয়, আসামি ওবায়দুল কাদের, তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি একই উদ্দেশ্যে উস্কানিমুলক বক্তব্য ও নির্দেশনা দেন। আসামি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও অন্যান্য আসামিদের এমন নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত