ডিজিটাল ট্রাফিকিং

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০১:০৮ এএম

ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঢাকাকেন্দ্রিক। এমনকি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীতেই। কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হওয়ার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন ঢাকায় বসতি স্থাপন করছে। যোগ হচ্ছে নতুন যানবাহন। কিন্তু রাস্তাঘাট বাড়ছে না। বাসস্থান ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে রাস্তাঘাট কমে যাচ্ছে। যানজটের কারণে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা। ফলে বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে বলা হয়েছিল রাজধানী ঢাকার সড়কে চলাচলকারী যানবাহন চলবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আর চলবে না হাত, হুইসেল দিয়ে গাড়ি থামানো। কিছুদিন ভালোই চলছিল। কিন্তু এরপরই ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে শুরু হয় অসন্তোষ। কী কারণ? জানা গেল ডিজিটাল সিগন্যালের মাধ্যমে ট্রাফিক কন্ট্রোলিংয়ের কারণে ট্রাফিককে অলস বসে থাকতে হচ্ছে। এরপরই দেখা দেয় অসন্তোষ। তারপর ট্রাফিকের বিশ্রামের জন্য মোড়ে মোড়ে গড়ে তোলা হয় ট্রাফিক পুলিশ বক্স। কয়েক দিন পর আবার সেই হাত। শুরু হয়ে যায় আগের নিয়ম। এখনো যা চলছে।

গাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন আছে। তা অমান্য করলে জরিমানা কিংবা মামলার বিধান রয়েছে। অভিযোগ আছে, ‘নগদ কিছুর’ বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় গাড়ি। একদিকে অল্পশিক্ষিত ড্রাইভার-হেল্পার, অন্যদিকে কয়েকজন দুর্নীতিবাজ ট্রাফিক পুলিশ। এই দুইয়ে মিলে সাধারণ যাত্রীদের অবস্থা তথৈবচ। ডিজিটাল সিগন্যাল থাকার পরও বিশে^র কয়টি দেশে এ রকম হাতের ইশারায় ট্রাফিক সিস্টেম রয়েছে, জানা নেই। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরে ‘হাতের ইশারা থেকে বেরোচ্ছে ডিএমপির ট্রাফিক সিগন্যাল’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা যাচ্ছে, নতুন করে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সাজাতে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা চলছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় ঘটা ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। জানা যাচ্ছে, ডিএমপির ৩৪০টি সিগন্যালকে আধুনিক করা হবে। হাতের ইশারায় নয়, এখন আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল অনুযায়ীই ট্রাফিকিং চলবে। এ ছাড়া ২৫০টি ট্রাফিক বক্স তৈরি, ট্রাফিকের কারিগরি ইউনিটের ৩৯টি পদে ৬ হাজার জনবল নিয়োগ, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং যুগোপযোগী আইন ও বিধিমালা তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে।

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মূলত অপারেশনাল ভূমিকা পালন করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু ট্রাফিক অবকাঠামো, ট্রাফিক বিভাগের প্রকৌশলগত বিষয়গুলো, রাস্তায় চলাচলরত সব যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পার্কিং নীতিমালা, রাস্তায় গাড়ির ধারণ ক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ প্রভৃতি দায়িত্ব বিআরটিএ ও বিআরটিসির। ফুটপাত, পার্কিং নীতিমালা, বায়ুদূষণ, বাস-বে, বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, সরকারি ডাম্পিং স্টেশন, ট্রাফিক সিগন্যাল ও পথচারীদের নিরাপদ পারাপার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করিডর ব্যবস্থাপনাসহ প্রায় সব বিষয়ের ব্যবস্থাপনা ঢাকা সিটি করপোরেশন, সেতু বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় করে। ঢাকা মহানগরীতে অতি গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ ট্রাফিক ইন্টারসেকশন রয়েছে ৩৪০টি। ঢাকা মহানগরীর জন্য প্রায় ২৫০টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ট্রাফিক অফিস, ট্রাফিক বক্স, ট্রাফিক ইনফরমেশন ও সার্ভিস সেন্টার, ট্রাফিক এডুকেশন সেন্টার এবং ট্রাফিক ট্রেনিং পার্ক স্থাপন জরুরি।’

পাঠ্যক্রমে জরুরি আইন সম্পর্কে পরিচিতি করানো হয় না। ফলে বেশিরভাগই জানি না কোনটা আইন, ওই আইন মানার সুবিধা কী এবং না মানলে কী ধরনের সমস্যা বা শাস্তি হতে পারে? রাস্তায় কতদূরে গেলে জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা রোড ক্রসিং আছে সেসব নির্দেশনা বেশিরভাগ জায়গায় নেই। গবেষকদের মতে, যদি রাজধানীর যানজট ৬০ শতাংশ কমানো যায়, তাহলে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যাবে। যানজটে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ডিটিসিএ, বিআরটিএ, বিআরটিসি, সেতু বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এটা নতুন করে সাজাতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হলে যানজট এমনিতেই সহনীয় হয়ে উঠবে। ‘যানজটের শহর’ দুর্নামের তিলকমুক্ত হোক ডিজিটাল ঢাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত