হাতে-পায়ে ফুসকুড়ি থাকলেই বিমানবন্দরে পরীক্ষা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৫৮ এএম

আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে সংক্রামক ব্যাধি এমপক্স (মাঙ্কিপক্স) ছড়িয়ে পড়ায় রোগটি নিয়ে ‘বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা (পিএইচইআইসি) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বুধবার এই ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।

এর আগে ২০২২ সালেও রোগটি নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করেছিল ডব্লিউএইচও। পিএইচইআইসি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা। কোনো একটি রোগকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গবেষণা, তহবিল ও বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপে গতি আনার জন্য এই সতর্কতা জারি করা হয়।

মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন ঘোষণায় সতর্ক বাংলাদেশ। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এখনো কোনো মাঙ্কিপক্স রোগী বা সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে রোগটি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবারের ধরন সর্বোচ্চ বিপজ্জনক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে রোগটির উপসর্গ বিষয়ে বলা হয়, এমপক্স আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, স্পর্শ ও অন্য ব্যক্তির খুব কাছে গিয়ে কথা বলা বা নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগের সংক্রমণে জ¦রের মতো লক্ষণ দেখা দেয় ও চামড়ায় ক্ষত তৈরি হয়। এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনের মধ্যে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়।

ভ্যাকসিনের মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে এগুলো সাধারণত শুধু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বা যারা সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করেন তাদের জন্য।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এমপক্সের দুটি ধরন রয়েছে ক্লেইড-১ ও ক্লেইড-২। ২০২২ সালে ক্লেইড-২-এর তুলনামূলক মৃদু সংক্রমণ চলাকালে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার ক্লেইড-১-এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এই ধরনটি আরও বেশি প্রাণঘাতী। এমপক্সের নতুন এই ধরনটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক’ বলা হচ্ছে।

হাতে-পায়ে ফুসকুড়ি দেখলেই বিমানবন্দরে পরীক্ষা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আফ্রিকার কঙ্গো ও তার আশপাশের দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। সে কারণে এই রোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেখেছে রোগটির সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। এজন্য তারা জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করেছে।

এই কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যেই দেশের বিমানবন্দরগুলোকে জানানো হয়েছে যে এসব দেশ থেকে আসা মানুষের হাতে-পায়ে কোনো ফুসকুড়ি দেখা যায়, তাহলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হবে এবং তার চিকিৎসার সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। ২০২২ সালেও এ রকম একবার বৈশি^ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনো অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছিল। সে বছরও কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এবারও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিশ্বের এখন পর্যন্ত যত রোগী পাওয়া গেছে, তার ৯০ শতাংশ কঙ্গোর। কঙ্গোর সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত বিমান যাতায়াত নেই ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও কম।

সতর্ক থাকার পরামর্শ : মাঙ্কিপক্স নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে এই রোগের ঝুঁকি নির্ণয় করতে হবে। ঝুঁকির লেভেল বুঝে কার্যক্রম নিতে হবে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগটির ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা : কঙ্গোর পর এখন মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে মাঙ্কিপক্স। রোগটির নতুন এই ধরনে উচ্চ মৃত্যুহারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই আফ্রিকার ভেতর ও বাইরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস। একে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘এই রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ ও জীবন রক্ষা করতে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।’

চলতি বছরের শুরু থেকে ডিআর কঙ্গোতে ১৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি এমপক্স রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কেনিয়া ও রুয়ান্ডায়ও রোগটি ছড়িয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত