প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫ দিনের কর্মসূচি

আন্দোলনে ১৯৮ জন বিএনপি নেতাকর্মী নিহত

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

জুলাই-আগস্টের ছাত্র বিক্ষোভ ও সরকার পতনের আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১৯৮ জন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘পঙ্গু হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি ১২৪ জনের মধ্যে ৯০ জনই ছাত্রদলের সদস্য। বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এ জন্য আমি ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখন আমাদের সামনে কিন্তু বড় সংগ্রাম, বড় লড়াই। সেই লড়াইটা কী? এই বিপ্লবের বিজয়কে সুসংহত করা। এই বিজয়কে যদি আমরা সুসংহত করতে না পারি আবার কিন্তু নব্য ফ্যাসিবাদ এসে হাজির হবে। এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’ এ সময় ১ সেপ্টেম্বর দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তিনি।

গতকাল বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

মির্জা ফখরুল কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, ‘৩১ আগস্ট মহানগর-জেলায় আলোচনা সভা, ঢাকার ভেন্যু পরে জানানো হবে। ১ সেপ্টেম্বর সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২ সেপ্টেম্বর মহানগর-জেলা-উপজেলায় র‌্যালি, ৩ সেপ্টেম্বর মহানগর-জেলা-উপজেলা-ইউনিয়নে মৎস্য অবমুক্তকরণ এবং ৪ সেপ্টম্বর সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।’

এ ছাড়া দিবস উপলক্ষে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন আলোচনা সভা করবে। এগুলো কবে কখন কোথায় হবে তার ভেন্যু ও সময়সূচি ঠিক করে পরে জানানো হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে সব জেলা ইউনিট ও অঙ্গসংগঠনগুলো কর্মসূচি পালন করবে নিজেদের মতো করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন জনগণকে নিজের দায়িত্ব নিয়ে আমাদের অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করতে হবে। আজকে কেউ যদি সন্ত্রাস করতে চায়, চাঁদাবাজি বা অন্য কিছু করে, ক্ষতি করতে চায়, সেটা আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে রুখে দিতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে। আমাদের সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, সর্বক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা যারা ভ-ুল করবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে এবং ভ-ুলকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না। বিএনপি সব অন্যায়, সন্ত্রাসকে প্রতিহত করতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করবে।’

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, রশিদুজ্জমান মিল্লাত, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত