ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, বন্যায় এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৬০০ পরিবারের ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের (এসইওসি) এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
এদিকে রাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর, ঊনকোটি জেলার কৈলাশহর, কুমারঘাট, ধলাই জেলার কামালপুর, লংত্রাইভ্যালি ও গন্ডাচেরা, সিপাহীজলার বিশালগড় ও সোনামুড়া, খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া ও খোয়াই, গোমতী জেলার উদয়পুর, কারবুক ও অমরপুর, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম, বিলোনিয়া, শান্তিরবাজার এবং আগরতলা শহরসহ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সদর ও জিরানিয়া মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যার মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে। রাজ্যের বেশিরভাগ নদীর জলস্তর বিভিন্ন স্থানে বিপদ, গুরুতর বা এমনকি প্রত্যাশিত বন্যার স্তরের উপরে প্রবাহিত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে লোকজনকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গোমতী জেলায় গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ডুম্বুর বাঁধে ফ্লাডগেট খোলার বিষয়ে ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কোনো গেট খোলা হয়নি। জলাধারটির ক্ষমতা ৯৪ মিটার পর্যন্ত পানি ধরে রাখার। এই ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে গেট দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি বেরিয়ে যাবে। প্রশাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন হওয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া জাতীয় সড়কসহ অনেক এলাকায় ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বুধবার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করছেন। তিনি সকল সামাজিক সংগঠনকে এই সংকটে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বন্যায় ১২ জেলায় ২০২৫ টাওয়ার অচল, ব্যাহত মোবাইল নেটওয়ার্ক
২৭ বছরের রেকর্ড ভাঙল গোমতীর পানি 