টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে গোমতী নদী। গত ২৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতীর পানি। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জমান এ তথ্য জানান।
নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জমান বলেন, এর আগে ১৯৯৭ সালে গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু গত দুই দিনে পানি বাড়ার হিসাব অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। তবে গতকালের তুলনায় বৃহস্পতিবার পানি বাড়ার গতি কিছুটা কমে এসেছে।
এদিকে পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, আমাদের দেশে ও ভারতে বৃষ্টি এবং সেখানকার (ভারত) নদীর পানি প্রবাহের দিকে আমরা চেয়ে আছি। কারণ, গোমতীতে পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পাউবোর তথ্যমতে, গোমতী নদীর ডান পাশে ৬৫ এবং বাম পাশে ৭৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ আছে। উভয় তীরের বাসিন্দারা বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কায় আতঙ্কে আছে।
উল্লেখ্য, ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের আটটি জেলা। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থল দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করতে থাকায় একের পর এক জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।
হেলিকপ্টার দিয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
গোমতীর পানি বাঁধ ছুঁই ছুঁই, আতঙ্কে এলাকাবাসী