আখাউড়ায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে 

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:২৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের পর সূর্যের আলো দেখা যায়।  নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বানভাসি মানুষের স্বস্তি মিলেছে। তবে ভারতের ত্রিপুরা থেকে পানি নামা অব্যাহত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রের তথ্য, আজ ৬ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল। পানির স্রোতে সীমান্ত এলাকায় হাওড়া নদীর কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ধ্বসে পড়ে দুটি সেতু। আকস্মিক বন্যায় উপজেলা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি  পৌরসভার ৪৭টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন সরকারি প্রাইমারী স্কুলগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করেছে। বেশ কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে পানি কমতে থাকায় কিছু পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। 

পানিবন্দি গ্রামের মধ্যে রয়েছে বাউতলা, কালিকাপুর, ধলেশ্বর, বীরচন্দ্রপুর, বঙ্গেরচর, উমেদপুর, সেনারবাদি, সাহেবনগর, কুসুমবাড়ি, টানোয়াপাড়া, খলাপাড়া প্রভৃতি। আখাউড়া-আগরতলা সড়কের গাজীরবাজার এলাকায় অস্থায়ী সেতু ভেঙে স্থলবন্দরগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়েছে। স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানী ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে পানির তোড়ে আখাউড়া-কসবা সড়কের নয়াদিল ব্রিজের আংশিক অংশ ধ্বসে পড়ে। ওই পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মানুষ বিকল্প উপায়ে চলাচল করছে। 

এদিকে, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা বন্যার্তদের পাশে রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজসহ, বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বানভাসি মানুষদের মাঝে  ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন। প্রতিদিনের ত্রাণ নিয়ে আসছেন দুর্গত এলাকায়। 

শুক্রবার বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধিরা ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বর্ন্যাতদের মাঝে বিতরণ করেন। 

মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ. মতিন বলেন, আমার ইউনিয়নে ২০টি গ্রামের বহু পরিবার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। 

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি বলেন, উপজেলার ৪৭টি গ্রামের সহস্রাধিক  পরিবার পানিবন্দি হয়েছিল। তবে আজ পানি কমে যাওয়ায় ৭/৮শ পরিবার পানিবন্দি আছে। পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

 

 

 

 

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত