পানি ছাড়ার আগে জানানোর নিয়ম ভারত প্রতিপালন করেনি: উপদেষ্টা 

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৩১ পিএম

অভিন্ন নদীর পানি ছেড়ে দেয়ার আগে আগাম বার্তা দেয়ার কথা থাকলেও ভারত তা প্রতিপালন করেনি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, উজানের দেশে যদি অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় এবং পানি ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে ভাটির দেশকে আগে থেকেই জানানোর প্রয়োজন হয়। যাতে করে ভাটির দেশের লোকজন নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে পারে এবং লোকজনকে সরানো যায়। কিন্তু এবার এই জানানোর বিষয়টি ভারত প্রতিপালন করেনি। ভারতের সাথে আমাদের চুক্তিতেও এমনটি বলা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাঙেরগাওয়ে খোয়াই নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকেও এই বিষয়ে আলাপ হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে মনুষ্যসৃষ্ট কোনো দুর্যোগ না হয় সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতে জানানো হবে। 

ড্রেজিং না করায় আন্তঃদেশীয় নদীগুলোর নাব্যতা হারাচ্ছে এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নদী ড্রেজিংয়ের ব্যাপারটা উজান থেকে ভিন্ন হবে। নদী ড্রেজিং হবে না পলি ব্যবস্থাপনার অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে যাবে তা একটি বড় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা আছে। কিন্তু বিগত দিনে এ বিষয়ে কোনো জোর দেয়া হয়নি। 

সৈয়দা রেজওয়ানা বলেন, হবিগঞ্জ শহরকে বাঁচাতে হলে খোয়াই নদীকে রক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। এ নদী রক্ষায় অল্প টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে বেশী টাকার প্রয়োজন হলে তাও করা হবে। এছাড়া পুরনো খোয়াই নদীকে দখলমুক্ত করা খুবই জরুরি।

নদীপথ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন, ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযান চালানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ফেনীতে যে প্লাবন হচ্ছে তা কমে গেলেও অবৈধ স্থাপনার জন্য নদীপথ সংকুচিত হওয়ায় পানি নিস্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। 

এরআগে তিনি হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে বন্যায় পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন। বৈঠকে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সমন্বয়কারীরা হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আব্দুল বাসেতের নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতি তুলে ধরে তার অপসারণ দাবি করেন। 

ছাত্রদের প্রতিনিধিদের দাবির বিষয়ে রিজওয়ানা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুজন সমন্বয়কারী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে, তারা পদ্ধতি ঠিক করবেন। তাদের নিকট থেকে পদ্ধতি পেয়ে আমরা নির্ধারণ করব; কোথায় কোথায় প্রশাসনকে সংপৃক্ততা করা যায়। একটি ইউনিফর্ম কোডের মধ্যে আসতে হবে। এদেশে ৫০ নাগরিক হচ্ছে তরুণ।  সেখানে তরুণদেরকে কার্যক্রম পরিকল্পনা বাইরে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না। তবে রাতারাতি কোনো পদ্ধতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। পদ্ধতি পরিবর্তন করতে গেলে ধৈর্য ধরতে হয়। আমরা ব্যক্তি নয়; সমষ্টিগত পদ্ধতি পরিবর্তনে আগ্রহী। 

অনুষ্ঠানে বাপা সভাপতি ইকরামুল ওয়াদুদ ও সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেলের নেতৃত্বে হবিগঞ্জের একটি প্রতিনিধিদল তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারা হবিগঞ্জের শিল্প দূষণ পুকুর ভরাট ও নদনদী রক্ষার  বিষয়ে একটি সুপারিশপত্র প্রদান করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত