কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি বৃষ্টি খাতুনের (২৫) মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে বৃষ্টির বাবা সাইফুল শেখ বাদী হয়ে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বদর উদ্দিনের নামে মামলা করেন। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়ার বিশ্বাস মোড় এলাকার নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুজন প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে একজন উপজেলার যদুবয়রা গ্রামের রিপন শেখের স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২৫)। তাকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে নোভা ক্লিনিকে অস্ত্রপচার করা হয়। এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওইদিন রাত ৩টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিকালে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
অপরজন নন্দলালপুর ইউনিয়নের বেলঘোড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে মর্জিনা খাতুন (২৭)। তিনি গত ১৮ আগস্ট রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। গত ১৯ আগস্ট ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়।
এ ব্যাপারে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বদর উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. আকুল উদ্দিন জানান, মাত্র চারদিনের ব্যবধানে নোভা ক্লিনিকে দুজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো যাবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিরুল আরাফাত বলেন, অল্প সময়ে দুজন প্রসূতির মৃত্যর অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লিনিকটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম বলেন, নিহত বৃষ্টির বাবা বাদী হয়ে ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
