ভারতীয় ঢলের পানি ও অবিরাম বৃষ্টিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে কুমিল্লা। এমন বন্যা এর আগে দেখে নি এ এলাকার বাসিন্দারা। নানা পদে হয়রানির স্বীকার হতে যাচ্ছে তাদের। ডাকাতির ভয়ে কেউ আবার নিরাপদ আশ্রয়ে না গিয়ে রয়েছেন বাড়িতে। আর বন্যার্তদের সহায়তায় দেশবাসী এক হয়ে যেভাবে ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন কুমিল্লা জেলার বুড়িচংয়ে। সেভাবে ত্রাণ মিয়ে যাচ্ছে না কুমিল্লার দক্ষিণ অঞ্চলের। এতে বানভাসিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হাহাকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার দক্ষিণ অঞ্চল নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম। তার মধ্যে চৌদ্দগ্রাম ও লাকসাম উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তুলনামূলক স্থানীয় ভাবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছ থেকে ত্রাণ পাচ্ছেন তারা। কিন্তু নাঙ্গলকোট ও মনোরঞ্জন তার উল্টো। বৃষ্টি কমলেও এখনো পানিতে তলিয়ে আছে । এতে পানিবন্দি রয়েছে অন্তত ৩ লাখ মানুষ। তাই ওই সব এলাকায় বানভাসীর মধ্যে চলছে ত্রাণের হাহাকার।
দেখা যায়, জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি উপজেলাই বানের পানিতে নিমজ্জিত। পানিবন্দি অন্তত ৮ লাখ মানুষ। এসব উপজেলার মধ্যে সারাদেশ থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কর্মীরা দাউদকান্দি, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় বেশি প্রবেশ করছেন। ত্রাণ পাচ্ছেন না পানিবন্দি নাঙ্গলকোট, লাকসামের কিছু এলাকা ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা কম থাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করার খবরে বুড়িচং উপজেলার প্লাবনের খবর বেশি প্রচার হওয়ায় সারাদেশ থেকে দলে দলে নৌকা ও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করছেন সেখানেই। কিন্তু ডাকাতিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে জেলার দক্ষিণের তিন উপজেলা। এসব এলাকায় অন্তত ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি আছেন। সরকারি ত্রাণ সেসব মানুষদের জন্য খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সেসব এলাকার বানভাসিরা।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউপি সাতবাড়িয়া গ্রামে শাহআলম মজুমদার বলেন, ’সাতবাড়িয়া ইউনিয়নটা নদীমাতৃক এলাকা। সবার আগে এ ইউনিয়নটা পানিতে ডুবে। গত কয়েকদিন ধরে এই ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। খাওয়া-দাওয়ায় অনেক কষ্ট পেয়ে পাচ্ছি। কারো কাছে লজ্জা শরমে বলতেও পারছি না। সেই সঙ্গে এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির খুব প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
এ বিষয়ে নাথেরপেটুয়া এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মনোহরগঞ্জের নিন্মাঞ্চলের মানুষ খুবই কষ্ট পাচ্ছে। পানিতে আটকা অনেক মানুষ। তাদের উদ্ধার করতে নৌকা ও স্পিডবোট দরকার। সরকারি ত্রাণ তেমন পাচ্ছি না। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একটু এদিকে আসলে ভালো হয়।’
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত উজালা রানী চাকমা বলেন, ‘এখানে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। আজকে পানি আরও বেড়েছে। এ উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে যেগুলোতে নৌকা ছাড়া যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। আমাদের কাছে নৌকার প্রচুর সংকট রয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে পাঠিয়ে সেসব এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, ‘এ উপজেলায় ত্রাণ সরবরাহে কিছুটা সংকট রয়েছে। কিছু জায়গায় একেবারেই পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে তাদের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া জন্য। শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত থেকে আবার পানি বেড়ে গেছে।
দুই জায়ের ঝগড়া থামাতে গিয়ে শ্বশুরের মৃত্যু!
ত্রিপুরাতে বন্যায় মৃত বেড়ে ২৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ লাখ মানুষ
২০ বছরের সংসার নিমিষেই তলিয়ে গেল
টিএসসিতে জায়গা নেই, ত্রাণ নিয়ে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ছুটছে মানুষ
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের হামলা, জরুরি অবস্থা জারি
খুনের মামলা মাথায় নিয়ে বিশ্বরেকর্ড সাকিবের
বগুড়ায় শেখ হাসিনার নামে আরও একটি হত্যা মামলা