টিএসসিতে জায়গা নেই, ত্রাণ নিয়ে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ছুটছে মানুষ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০২:৪০ পিএম

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার্ত মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য টিএসসিতে আসা ত্রাণ রাখার মতো আর জায়গা না হওয়ায় ত্রাণ সংগ্রহের ভেন্যু পরিবর্তন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে মানুষ খাদ্য সহায়তা ও কাপড় নিয়ে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানুষের দেওয়া ত্রাণ সামগ্রীগুলো সংগ্রহ করে ঢাবির জিমনেসিয়াম ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমা করছেন। শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে প্রাঙ্গণে চলছে ত্রাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

টিএসসিতে বন্যার্তদের জন্য সংরক্ষিত ত্রাণ।

আজ রবিবার ঢাবির টিএসসি ও শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, টিএসসির প্রধান ফটকে সারা দেশের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে গণ-ত্রাণ সংগ্রহ’ বুথ বসানো হয়েছে। সেখানে নগদ অর্থ আদায় করছে স্বেচ্ছাসেবকরা। সেখানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নিজের সাধ্যমতো বন্যার্তদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করছেন। আর টিএসসির ভিতরে দেখা গেছে গত কয়েকদিন ধরে বন্যার্তদের জন্য সংগ্রহ করা ত্রাণের স্তুপ। টিএসসির অভ্যন্তরীণ ক্রীড়াকক্ষে ও ক্যাফেটেরিয়াসহ করিডোরে বিস্কুট, চিড়া-মুড়িসহ প্রতিটি খাবার আলাদা-আলাদা বস্তায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টিএসির ভিতরে এসব ত্রাণসামগ্রী প্যাকেজিং করা হচ্ছে। এগুলো পৌঁছানো হবে বন্যাকবলিত এলাকায়।

বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে আসছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে টিএসসিতে ত্রাণ রাখায় জায়গা না থাকায় আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির সামনেই মাইকে একটু পর পর ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, ‘চলাচলের রাস্তা বন্ধ করবেন না, শৃঙ্খলা বজায় রাখুন’। আর কিছুক্ষণ পরপর প্রাইভেটকার, ট্রাক, রিকশা, এমনকি ঠেলাগাড়ি ভর্তি করে বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবার, খেজুর এবং পানি নিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। গত দুইদিন ধরে শুকনো খাবারের চাহিদার পাশাপাশি বেড়েছে বন্যার্ত এলাকায় কাপড়ের চাহিদা। তাই আজ অনেকেই শুকনো খাবারের পাশাপাশি কাপড় নিয়ে আসছেন। শুকনো খাবারগুলো স্বেচ্ছাসেবকরা সংগ্রহ করে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রেের জিমনেসিয়ামে রাখছেন, আর কাপড়গুলো রাখা হচ্ছে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের গ্যালারিতে। সময় যতই গড়াচ্ছে ততই ত্রাণ নিয়ে আসা মানুষের ভীড় বাড়ছে।

এদিকে ত্রাণ আসার সঙ্গেই একদল স্বেচ্ছাসেবক জিমনেসিয়ামে প্যাকেজিং কাজ করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক কাজ করার জন্য সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। সেখানে তাদের নাম রেজিষ্ট্রেশন করার মাধ্যমে প্যাকেজিং কাজ শুরু করছেন। অন্যদিকে ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বন্যার্তদের জন্য দেওয়া কাপড়গুলো আলাদা করছেন নারী স্বেচ্ছাসেবকরা।

সাধারণ মানুষের দেওয়া ত্রাণ সংগ্রহে ব্যস্ত স্বেচ্ছাসেবকরা।

ঢাবির জিমনেসিয়ামে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুয়েল রানা নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল ৮টা থেকে আমি ত্রাণ সংগ্রহের কাজ করছি। জাতির এই ক্রান্তিকালে মানুষ যেভাবে এগিয়ে আসছে তা অভাবনীয়। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই ত্রাণ দেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সব বয়সী মানুষ মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট-পানিসহ শুকনো খাবার নিয়ে হাজির হচ্ছেন।'

টিএসসিতে ত্রাণ সংগ্রহ কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে বলেন, 'বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে প্রতিরাতে আমরা ১০ থেকে ২০টি ট্রাকে করে খাদ্য সামগ্রী পাঠানোর কাজটি করছি। আজ ভোররাতে আমরা জানতে পারি ফেনী ও নোয়াখালীর কিছু দুর্গম এলাকায় ট্রাকে করে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তাৎক্ষণিক আমরা বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দুইটি হেলিকপ্টার মাধ্যমে সেখানে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। আমরা ঠিক এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত