ভয়াবহ বন্যায় ডুবেছে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের জেলা কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা। আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লার অধিকাংশ এলাকার লাখ-লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেশিরভাগ ঘরবাড়ি, সড়ক ও ফসলি মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যাকবলিত অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার্তদের এমন দুর্দশার চিত্র দেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১ যুবক বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দিদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জ থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। পরদিন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় তারা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ইছাপুর গিয়ে পৌঁছান। এর আগে পথিমধ্যে কিশোরগঞ্জের চামটা ঘাট থেকে দুইটি স্পিডবোট নিয়ে নৌপথে ভৈরব পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ট্রাকে করে গিয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ইছাপুর পশ্চিমপাড়া মদিনা জামে মসজিদে তারা আশ্রয় নেন। শুরু করেন উদ্ধার অভিযান। ৫ দিনের উদ্ধারকাজে তারা নারী ও শিশুদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৩০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান ‘ওরা ১১ জন’ টিমের নেতৃত্বে থাকা বায়েজিদ ইসলাম বিজয়। তারা উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে খাবারও সরবরাহ করছেন।
‘ওরা ১১ জন’ টিমের মধ্যে বায়েজিদ ইসলাম বিজয়, আদিল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম, রবি, হাতেম আলী বেপারী ও রুহুল আমিন ছাড়াও রয়েছেন আরও পাঁচজন সদস্য।
এই টিমের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া রহিমা খাতুন নামের এক নারী ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা পানিতে আটকা পড়েছিলাম, ভাবছিলাম মারাই যাব। পরে আমাদের এই ভাইয়েরা (ওরা ১১ জন) উদ্ধার করেছে। আমরা ভালো নেই, খুব কষ্টে আছি। সবাই আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসুন দয়া করে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন সবাই।’
‘ওরা ১১ জন’ টিমের নেতৃত্বে থাকা বায়েজিদ আহমেদ বিজয় গতকাল রবিবার বেলা ৩ টার দিকে মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই কুমিল্লার অবস্থা ভালো না। আজও পানি বাড়ছে, কখন কী হয় বলা যায় না। আমরা এ পর্যন্ত ৪৩০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে উদ্ধার করে এনেছি। উদ্ধারের পর তাদের মধ্যে খাবারও বিতরণ করছি। এতে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করছেন। সবাই বন্যার্তদের এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন। প্রাণে বেঁচে থাকলে আমাদের এই অভিযান চলবে ইনশাল্লাহ।’
