বান্দরবানের থানচির দুর্গম এলাকাগুলো বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাড়াতে দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। উপজেলার মেনহাক পাড়া, বুলু পাড়া, তাংখোয়াই পাড়া, য়ংডং পাড়া। এ পাড়াগুলোতে ম্রো জনগোষ্ঠীর বসবাস। বাস করে ৬৪টি পরিবার। এদের সবাই জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো সমতল হওয়ায় এখানে জুম চাষ করেন তারা। কিন্তু গত বছরের বন্যায় সব ফসল তলিয়ে যায়। ফলে জুমের ফসল তোলা হয়নি ঘরে। দেখা দেয় ঘরে ঘরে খাদ্যাভাব। ভারী বৃষ্টিতেও এ পাহাড় ও পাহাড় ঘুরে বাঁশ কোড়ল খুঁজে তা সেদ্ধ করে খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছেন তারা। প্রায় তিন মাস চলছে এ অবস্থা।
বুলু পাড়ার বাসিন্দা লিও ম্রো বলেন, তিন মাস ধরে ঘর চাল নেই। আমরা জঙ্গল থেকে বাঁশ কোড়ল তুলে সেদ্ধ করে খায়। বন্যায় জুমের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। জুম থেকে ধান তুলতে পারিনি। ঘরের চালও শেষ হয়ে গেছে।
আদাপাড়ার বাসিন্দা ঙৈলিং ম্রো বলেন, লাপ্রাইওয়া/মেনহাক পাড়া, বুলু পাড়া, তাংখোয়াই পাড়া, য়ংডং পাড়ার বাসিন্দার প্রায় তিন মাস যাবত বাঁশ কোড়ল সেদ্ধ করে খাচ্ছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি। সরকার থেকে কিছু পায়নি।
কারবারি বুলু ম্রো, মেনহাত ম্রো, এবং চিংক্রা ম্রো জানান, গত বছর অতিবর্ষণের কারণে চাষিরা তেমন ফসল পায়নি। থানচির রেমাক্রী ইউনিয়নে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ১৩টি পাড়া। এর মধ্যে ৪টি পাড়ার প্রায় ৬৪টি পরিবারে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এদের ঘরে কোনো চাল নেই। জঙ্গল থেকে বাঁশ কোড়ল সংগ্রহ করে সেদ্ধ করে তিন বেলা খাবার খাচ্ছে। কোনো মতে বেঁচে আছে। বাকি ৯টি গ্রামের জুমের ধান প্রায় শেষের পথে। এদের মধ্যে যাদের ঘরে ধান আছে তারা একজন আরেকজনকে ধান দিয়ে সাহায্য করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী পাড়াগুলোতে যাওয়ার মাধ্যম নদীপথ। তবে বান্দরবান জেলায় কয়েকদিন যাবত ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে নদী পথে পণ্য আনা নেওয়ার খরচও বেশি। ওই এলাকার মানুষ বেশিরভাগই জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। দুর্গমতার কারণে থানচি সদর থেকে চাল নিয়ে যেতে পারছেন না তারা। ২০১৬ সালে অতিবৃষ্টির কারণে জুমচাষ না হওয়ায় থানচি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৩০০ পরিবার খাদ্য ঘাটতিতে পরে। এসব ঘাটতি মোকাবিলায় তৎকালীন সরকার ৪৬ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়।
থানচি সদরের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো জানান, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৪টি পাড়ায় ৫০-৬৪টি পরিবার বাস করে। ওই খানে ম্রো এবং ত্রিপুরারা বাস করে। তাদের অবস্থা খুবই করুণ। বাঁশকোড়ল খেয়ে জীবনধারণ করছে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত ছিলাম না। রেমাক্রি ইউনিয়নটা অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। লিক্রি, তাংখোয়াই পাড়াসহ আরও কিছু পাড়া নেটওয়ার্ক বিহীন। যোগাযোগ সহজে করা যায় না। ওইখানে বেশ কিছু পাড়ায় খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। গতকাল সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুটি নৌকা করে ১ মেট্রিক টন চাল আমরা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলায় একই কারণে খাদ্য সংকট দেখা দেয়৷ তখন মে থেকে অক্টোবর, এই ছয় মাসের জন্য সাড়ে ৬ হাজার পরিবারকে একটি প্যাকেজের আওতায় খাদ্য সাহায্য দেওয়া হয়৷
ফারাক্কার গেট খোলা নিয়ে যা বলছে ভারত
শপিং মলে গিয়ে অপমানিত, যেভাবে প্রতিশোধ নিলেন তরুণী