চট্টগ্রামের দুই থানায় হামলার মামলায় আসামি ৭০ হাজার

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০২:০৯ এএম

নগরের ইপিজেড থানা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অজ্ঞাত ৩০ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। গত ২২ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও জানাজানি হয় সোমবার। এছাড়া গত ২৪ আগস্ট রাতে একই অভিযোগে নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ৪০ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এছাড়া ইপিজেড থানায় ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলাটি করেছেন ওই থানার উপপরিদর্শক শাকিলুর রহমান। দুই মামলায় অজ্ঞাত ৭০ হাজার জনকে আসামি করায় পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রামের সিনিয়র আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘এজাহারে বর্ণিত ঘটনা প্রমাণের জন্য আদালতে পুলিশকে যথাযথ এবং উপযুক্ত আলামত, সাক্ষী-সাবুদ উপস্থাপন করতে হবে।’ সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি থানা ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যারা অস্ত্র, গাড়ি ও মালামাল লুট করেছে তাদের চিহ্নিত করার কি সুযোগ আছে? থানা কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এত সংখ্যক আসামি চিহ্নিত করতে পুলিশ গলদঘর্ম হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার বাণিজ্য হবে। নিরীহরা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করে সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যা হচ্ছে পুলিশের মনগড়া। শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় এক ডজনের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগ আসামি বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। এখন সে সব মামলার কী হবে। কোনদিকে যাবে তদন্ত। পাল্টে গেছে চিত্র। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশের করা মামলার এজাহারে ঘটনার বর্ণনারও পরিবর্তন হয়েছে। সবমিলিয়ে হ য ব র ল অবস্থা।’   

কোতোয়ালি থানার মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্ট হাজার হাজার হামলাকারী থানা ভবনে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। থানার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মামলার স্পর্শকাতর আলামত পুড়ে গেছে। বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করা হয়েছে। হামলায় প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ইপিজেড থানায় করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্বৃত্তদের দ্বারা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ১ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলেও উল্লেখ আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত