নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঁচজন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আবেদনটি করেন। ১৩ বছরের বেশি সময় আগে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।
রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য গত রবিবার সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম. হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দুই তরুন ভোটার জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানের পক্ষে রিভিউ আবেদনের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমতির পর গতকাল এ রিভিউ আবেদন করা হলো।
ড. শরীফ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৮টি যুক্তিতে সোয়া আটশ পৃষ্টার রিভিউ আবেদনটি হলফনামা (এফিডেভিট) করে দাখিল করা হয়েছে। এখন আমাদেরকেই শুনানির উদ্যোগ নিতে হবে। চেম্বার আদালতে মেনশন (উপস্থাপন) করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আনতে হবে। খুব সম্ভব সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের (৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ) পর শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।’
১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভূক্ত হয়। এ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে ১৯৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনী ছিল সংবিধানসম্মত। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করে রিটকারীপক্ষ। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল মঞ্জুর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে তখনকার প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। এ রায়ের আলোকে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাশ হয়। ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
