বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের পাশে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৫১ পিএম

আকস্মিক বন্যায় দেশে বিপুল সংখ্যক ফসল নস্ট হয়েছে। যার কারণে বড় ধরণের খাদ্যসঙ্কটের আশংকা তৈরী হয়েছে। দেশের এই সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্য কৃষি এবং কৃষককে বাচাতে ত্রাণ সরবরাহের পাশাপাশি বিনা মূল্যে ধানের চারা এবং সবজির বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। 

এই উদ্যোগকে সফল করতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইজজও) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উঅঊ) সহায়তায় বীজ সংগ্রহ ও বিশ্ববিদ্যালের গবেষনা মাঠে ধানের চারা উৎপাদন করার জন্য বীজতলা তৈরীর কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে। তাছাড়া সবজি ফসলের চারা উৎপাদনের কাজ ও এগিয়ে চলছে। পুরাতন বাণিজ্য মেলায় মাঠে ও ব্যাপক আকারে বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হবে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সমন্বয়ক আল রাকিব বলেন, ‘কৃষি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্যায় কৃষি সেক্টরের ক্ষতিকে কাটিয়ে উঠতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ধান চাষ এবং কিউকারবিট রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) এর সহায়তায় বন্যাকবলিত এলাকার জন্য উপযোগী ধান ব্রি-২৩,ব্রি-৭৫ এবং বিনা-১৭ ভ্যারাইটির ধানের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এগ্রোনমি ফিল্ডে চার বিঘা জমিতে বীজ বপন করে চারা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে রবি সিজনকে সামনে রেখে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সবজি জাতীয় চারা উৎপাদন বাস্তবায়ন করা হবে।’

হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। আশা করি বন্যা পরবর্তী সময়ে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় অনেকাংশে ভূমিকা রাখবে। কিউকারবিটস ( সবজি,টমেটু,বেগুন ইত্যাদি) যেহেতু রবি সিজনের ফলন তাই সবজি এখনি লাগানো হচ্ছেনা। রবি সিজনকে সামনে রেখে তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং কৃষকদের মাঝে বীজ সরবরাহ করা হবে।’ 

এগ্রোনমি বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মহৎ উদ্যোগে খাদ্যসঙ্কট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করি। বাস্তবায়নে  শিক্ষকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। বিএডিসি থেকে আমরা ৩০০ কেজির মতো ধান বীজ পায়। প্রায় চার বিঘা জমিতে বীজ গুলো বপনের প্রকিয়া চলমান। আমরা বিএডিসি থেকে আরোও ধান বীজ পাওয়ার জন্য যোগাযোগ রাখছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত