প্রতি বছরের মতো এবারও স্পেনে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘লা টমাটিনা’ উৎসব। উদযাপনকারীদের সাদা পোশাক রক্তিম হলো টকটকে লাল রংয়ে। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার বুনল গ্রামে ১৯৪৫ সাল থেকে প্রতি বছর উদযাপিত হয়ে আসছে উৎসবটি। এটি ছিল স্প্যানিশদের ৭০তম ‘লা টমাটিনা উৎসব।
বুধবার (২৮ আগস্ট) প্রায় ২২ হাজার মানুষ পরস্পরের দিকে টমেটো ছুড়ে উপভোগ করে দিনটি। ১২০ টন পাকা টমেটোতে তারা ভেসে যায় আনন্দের জোয়ারে। ১৯৪৫ সালে উৎসবটির প্রচলন শুরু হলেও ১৯৫০ এর দশক থেকে এর উদযাপন বন্ধ হয়ে যায়।
তবে চাইলেই যে কেউই এই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কারণ, এই উৎসবটিতে শুধু ১৮ বছর এবং তার চেয়ে বেশি বয়সীরাই অংশ নিতে পারে। এই উৎসবে অংশ নেয়ার পর দর্শকরা যে শুধু মজা করে তাই নয়। গায়ে টমেটো মাখানোর কাজে তাদের স্কিনেও ফিরে আসে হারানো উজ্জ্বলতা।
প্রায় তিন দশকের বিরতি দিয়ে পরবর্তীতে ১৯৮০’র দশক থেকে পুনরায় এটি পালিত হতে থাকে এবং বর্তমানে এটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। স্প্যানিশদের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজমায়েত হয়ে থাকে এই উৎসবকে ঘিরে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ১৯৪৫ সালে উৎসবের শুরু হয় বুনিয়ল শহরের টাউনহলের এক কর্মকর্তার সাথে বিবাদের মাধ্যমে। এ কর্মকর্তার সাথে শহরের লোকেরা টমেটো ছুড়ে প্রতিবাদ জানায়। এরপর অনেকেই বিষয়টিকে মজার মনে করেন। আর তাই এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় টমেটো নিয়ে মজা করার এ আয়োজন।
শুরুতে যে টমেটো ছুড়ে প্রতিবাদ করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কথিত আছে টমেটোবোঝাই একটি লরি রাস্তায় কাত হয়ে পড়ে গেলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ওই টমেটো লড়াই শুরু হয়েছিল; কিন্তু একটা বিষয়ে সবাই একমত, শহরের কোতোয়াল এসেই লড়াই থামিয়েছিল এবং পরের বছর শহরবাসী এই লড়াইয়ে উৎসাহী ছিল।
লা টমাটিনার এই জমজমাট অবস্থা অবশ্য এক দিনে হয়নি। শুরুর দিকে লাগাতার কয়েক বছর চলে এই টমেটো খেলার ঘটনা। টমেটো খেলার অপরাধে বহু মানুষকে আটক করে জেলে ঢুকায় শহর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর উৎসব চালু করার পর জনমত গঠনে এক ব্যঙ্গাত্মক কর্মসূচি হাতে নেয় শহরের মানুষেরা।
১৯৫৭ সালে লোকজন একটা কফিনের মধ্যে বিশাল একটা টমেটো রেখে ‘টমেটোর মৃত্যুতে’ শোক মিছিল করে। শোকসঙ্গীত গেয়ে গেয়ে পথচলা লোকে লোকারণ্য সেই মিছিল দেখেই শহর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এরপর অনুমতি তো মেলেই, ধীরে ধীরে টাউন হলই এই টমেটো খেলার আনুষঙ্গিক আয়োজনের দায়িত্ব নিতে থাকে।
অনেকটা হোলি খোলার মতোই চলে এই আয়োজন। আর তাই শুরুর পরই সবাই নিজেকে রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পাগলামির মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় মাঝে মধ্যে। টমেটো তা যত পাকাই হোক, অন্যের দিকে ছুড়ে মারার আগে তা অবশ্যই হাতের চাপে চ্যাপটা করে নিতে হবে, যাতে কেউ ব্যথা না পায়। সাথে কোনো পানির বোতল বা গ্লাস আনা যাবে না। আর নারী বা পুরুষ কারো শার্ট, টি-শার্ট, জামা ছেঁড়া যাবে না।
টেলিগ্রাম সিইওর শর্ত সাপেক্ষে জামিন, ফ্রান্স ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা