আজ দেশে যখন নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদের অধীনে প্রথম বোর্ডসভা চলছে তখন রাওয়ালপিন্ডিতে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। স্বাভাবিকভাবেই মাঠের খেলা ছাপিয়ে চন্ডিকার ভবিষ্যত প্রসঙ্গটি উঠে আসে প্রশ্নে।
বিসিবিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে নিজের অবস্থান কোথায় দেখছেন- এমন প্রশ্নের বিপরীতে চন্ডিকা বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, নেতৃত্বে নতুন কিছু মানুষ এসেছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। প্রথম কথা হচ্ছে আমার দলটিকে তৈরি করতে হবে। শেষ কয়েকমাস ধরে আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। এবারও সেটার ব্যতিক্রম হবে না। দ্বিতীয় ম্যাচে এটাই লক্ষ্য।’
প্রথম টেস্ট প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘আমরা আগে ফলাফল নির্ভর উইকেটে খেলেছি। ওইসব মাঠে আপনি ২৬০-২২০ বা ২৩০ রান করলেই জিততেন। এটা আগে হতো। নিউজিল্যান্ডেও এমন হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় আমরা পেসবান্ধব উইকেটে খেলেছি। তবে এবারের উইকেটটি ভালো ছিল। তবে এই ম্যাচের জন্য আমাদের অ্যাপ্লিকেশন এবং পরিকল্পনা দারুণ ছিল। আমরা ব্যাটিংয়ে সময় নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। তাদের ফাস্ট বোলারদের স্পেলের পর স্পেল বোলিং করিয়ে ক্লান্ত করছিলাম। সেই অ্যাপ্রোচ ভিন্ন ছিল। কন্ডিশনের জন্যও আমাদের পরিকল্পনা ভিন্ন ছিল।’
এর পর যোগ করেন, ‘ভালো বিষয় হচ্ছে শুরুতে আমরা ভালো জুটি গড়তে পেরেছিলাম। শুরুতে ১২ ওভার ওপেনাররা ব্যাটিং করছিল, যদিও এটা কম সময়, তবে দ্বিতীয় দিনে এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেয়, ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। তারপর মুমিনুল-সাদমান মিলে ৯০ রানের জুটি গড়ে, তারপর লিটন আর মিরাজ প্লাটফর্ম কাজে লাগায়।’
আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে হাথুরুসিংহে জানান, ‘অবশ্যই, আমরা সবসময় আক্রমণাত্বক পরিকল্পনা নিয়েই এগোই। কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে আমাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়। প্রথম ম্যাচের সঙ্গে আমাদের প্রস্তুতির তেমন কোনো পার্থক্য নাই। আমরা আমাদের শক্তি এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানি। প্রতিপক্ষের শক্তি এবং সীমাবদ্ধতা নিয়েও আমাদের বেশ ভালো ধারণা আছে। আমরা যখন পরিকল্পনা করি তখন উইকেট এবং আকাশের অবস্থা দেখতে হয়।’
দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোচ বলেন, ‘দলের সবার আত্মবিশ্বাস তো এখন খুবই ভালো। এটার যথেষ্ট কারণও আছে। দেখুন পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে হারানোর কাজটা একেবারে সহজ নয়। তারা খুবই শক্তিশালী দল। এখনও আমরা দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো লড়াইয়ের আশা করছি। কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে আমরা কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। যখন উইকেট দেখার সুযোগ পাব তখন নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। আমরা এখন পর্যন্ত উইকেট দেখার সুযোগ পাইনি কারণ সেটি ঢেকে রাখা ছিল। আগের ম্যাচের চেয়ে আবহাওয়াও মনে হচ্ছে একটু ভিন্ন। আমাদের প্যানেলে মুশি (মুশতাক আহমেদ) যথেষ্ট অভিজ্ঞ। সে যেহেতু এখানে খেলেছে এবং পিসিবির সঙ্গে কাজ করেছে যার ফলে এখানকার তথ্যগুলো শেয়ার করছে। এটা আমাদের সহায়তা করছে।’
তরুণদের নৈপুণ্য নিয়ে বিশ্লেষণে চন্ডিকা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিবেচনায় তারা (সাদমান ও নাহিদ) একেবারে তরুণ। নাহিদ রানা সম্ভাবনাময়ী পেসার। শুধু বাংলাদেশের জন্য না। আমি বলতে চাই পুরো বিশ্বের জন্যই। দেখুন সে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে এবং ধারাবাহিকভাবে ১৪০+ গতিতে বোলিং করতে পারে। সে এখনও তরুণ। তার কাছ থেকে অনেক কিছু এখনো পাওয়া হয়নি, তার সেরাটা এখনও বাকি। সাদমান বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। আগে সে কিছু টেস্ট খেলেও ফেলেছে। এই সুযোগটা পাওয়ার আগে সে দুবছর দলের বাইরে ছিল। মানসিকভাবে সে যথেষ্ট ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে, ফিরে এসেই এমন ইনিংস খেললো। ফেরার পথে সে চাপের মাঝেও ছিল।’
অর্থাৎ দলে পরিবর্তন আসবে কি না সেটা দেশের ক্রিকেটের চিরায়ত ধারায় টসের সময়ই হয়তো নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর পরও ধারণা করা যায় সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে আগের একাদশ দেখার সম্ভাবনা বেশ কম।
রাওয়ালপিন্ডিতে সারাদিন হতে পারে বৃষ্টি
১৭ বছর পর বিশেষ ক্যাপ পেলেন নির্বাসনফেরত ভিনসেন্ট
১০ বার মাথায় বল লাগা সেই পুকোভস্কির অবসর