চট্টগ্রামে স্কুল পরিচালনায় আধিপত্যের জেরেই যুবলীগ কর্মী আনিস ও মাসুদ কায়সার খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত দু’জনই হাটহাজারীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুচ গণি চৌধুরীর অনুসারী। নিহত আনিসের স্ত্রী এ্যানি আক্তারের দাবি, আনিস ও কায়সার খুনে স্থানীয় সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, আরমান ওরফে ডবল হাজী, জাহাঙ্গীর ও মো. হাসান জড়িত। মূলত হাটহাজারীর কুয়াইশ বুড়িশ্চর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন দু’জন।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে আনিসকে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের নাহার কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় এবং মাসুদকে হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম কুয়াইশ এলাকায় গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
জানা গেছে, নিহত আনিস (৩৫) হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম কুয়াইশ হাজী ওসমান আলী মেম্বার বাড়ির মৃত মো. ইছহাকের ছেলে। তারা দুই ভাই এক বোন। আনিস বিবাহিত ছিলেন। তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে। জমিজমা ও পোল্ট্রি ব্যবসা করতেন আনিস। অপরদিকে নিহত মাসুদ কায়সার (২৮) বোয়ালখালী উপজেলায় মো. রফিকের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে কায়সার সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই তারা পশ্চিম কুয়াইশ এলাকার নানা বাড়িতে লালিত-পালিত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় পরিচালনাকে কেন্দ্র করে ইউনুচ গণি চৌধুরীর অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এদের এক পক্ষে ছিল নিহত আনিস ও কায়সার। আরেক পক্ষে ছিল সাজ্জাদ, আরমান, জাহাঙ্গীর ও হাসান। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ হারান আনিস ও কায়সার। সরকার পতনের পর তারা যোগ দেন স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক, ছাত্র এবং অভিভাবকদের সঙ্গে।
বিদ্যালয় পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে প্রধান শিক্ষক নন্দন বড়ুয়ার পদত্যাগ দাবি করে আনিস ও মাসুদ কায়সারের পক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিছু সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন সুলতানার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা বেরিয়ে যান। এ সময় সেখানে কায়সার হৃদয় নামে সাবেক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার নেপথ্যে আনিস ও মাসুদ কায়সারের ভূমিকা ছিল মনে করছে প্রতিপক্ষ সাজ্জাদ ও আরমানরা।
স্থানীয়রা জানান, হৃদয়কে মারধরের ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিস ও মাসুদ কায়সারকে দুপুরের ঘটে যাওয়া ঘটনা মীমাংসার কথা বলে বাড়ির অদূরে অনন্যা আবাসিক এলাকায় ডেকে নিয়ে খুন করা হয়।
জোড়া খুনের এই ঘটনায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এবং জেলার হাটহাজারী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
‘ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে প্রত্যেকটি গুলি ও রক্তের হিসাব নেওয়া হবে’
ক্ষমতায় গেলে গুম রোধে আইন করবে বিএনপি: তারেক রহমান