আরও চাপে মাস্কের এক্স

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:০৯ এএম

ব্রাজিলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে একজন বৈধ প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে না পারায় শুক্রবার এই রায় দেন বিচারক আলেকজান্দ্রে দ্য মোরেস। ব্রাজিলে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে এক্সের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে আদালতের শর্তপূরণের আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন বিচারক মোরেস। কিছুদিন ধরে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে নানা বিষয়ে টানাপড়েন চলছিল এক্সের। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে সেই জল আরও ঘোলা হলো। এর আগেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এক্সের ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। ব্রাজিল এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।

ব্রাজিলে এক্স নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তখন একাধিক এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দ্য মোরেস। তখন থেকেই শুরু হয় দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি লড়াই। সে ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এই পদক্ষেপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন মাস্ক। সম্প্রতি ব্রাজিলে এক্সের আইনি প্রক্রিয়া সামলানোর জন্য নতুন বৈধ প্রতিনিধি নিয়োগে এক্সকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এ সময় শুরু হয়। কিন্তু সময়সীমা পার হয়ে গেলেও আদালতের সে নির্দেশনা মানেননি ইলন মাস্ক।

অ্যাকাউন্ট বন্ধের পাশাপাশি অ্যাপল এবং গুগলের মতো সংস্থাগুলো তাদের অ্যাপ্লিকেশন স্টোর থেকে এক্সকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে এর ব্যবহার বন্ধ করতে পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বিচারপতি মোরেস। তবে ভিপিএনের মাধ্যমে কেউ এক্সে ঢোকার চেষ্টা করলে ৫০ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ লাখ টাকা) জরিমানা করার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। ব্রাজিলে এক্স ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ মিলিয়নের বেশি। ফলে প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় ব্রাজিলে নিজের একটি বড় ও আকর্ষণীয় বাজার হারাতে হচ্ছে এক্সকে। আদালতের নির্দেশের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাস্ক। এটিকে অন্যায্য সেন্সরশিপ ও স্বৈরাচারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শুধু এক্সই নয়, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও তিক্ততার জেরে এ সপ্তাহ থেকে ব্রাজিলে স্টারলিংকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করা শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদানকারী স্টারলিংক মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের একটি ইউনিট।

তথ্যের অপপ্রচার ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ২০০৯ সালে এক্স নিষিদ্ধ করে চীন। সে বছরই এক্স ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টির অভিযোগে এটি নিষিদ্ধ করে ইরান। ২০১৬ সালে এক্স বন্ধের ঘোষণা দেয় উত্তর কোরিয়া। ২০১৮ সাল থেকে তুর্কমিনিস্তান ও উজবেকিস্তানেও বন্ধ এক্সের ব্যবহার। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এক্স ব্যবহার নিষিদ্ধ করে মিয়ানমার। পরের বছর ইউক্রেনে হামলার আগে রাশিয়ায়ও বন্ধ হয়ে যায় এক্স।

২০২২ সালে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে এক্সের পুরো মালিকানা কিনে নেন ইলন মাস্ক। ইলন মাস্ক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এক্সকে। এই প্ল্যাটফর্মের জন্য বিজ্ঞাপন থেকে আয় পেতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে এক্সকে। ব্রাজিলের আদালতের রায়ে সে পথ আরও কঠিন হলো যোগাযোগমাধ্যমটির। এর আগে এক্সের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন মাস্ক। গত মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমারের সঙ্গেও বাগযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন তিনি। ব্রাজিলে ফের এক্সের ব্যবহার শুরু করতে আদালতে নির্দেশনা মানার পাশাপাশি ৩০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক জরিমানাও দিতে হবে ইলন মাস্ককে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত