সুড়ঙ্গ থেকে ৬ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:৪৭ এএম

হামাসের হাতে জিম্মি আরও ছয় ইসরায়েলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা এলাকার একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। নিহত এসব জিম্মির পরিচয়ও প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। তারা হলেন কারমেল গ্যাট, অ্যাডেন ইয়েরুশালমি, হার্শ গোল্ডবার্গ-পলিন, আলেক্সান্ডার লোভানভ, আলমগ সারুসি ও মাস্টার সার্জেন্ট ওরি ড্যানিনো। তাদের মধ্যে হার্শ গোল্ডবার্গ-পলিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র রেয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারির ধারণা, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সেখানে পৌঁছানোর কিছু সময় আগে এই জিম্মিদের হত্যা করে হামাস। নিহতদের মরদেহগুলো ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে গত বছর ৭ অক্টোবর জিম্মি করে গাজা উপত্যকায় নিয়ে গিয়েছিল হামাস। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে বলে জানানো হয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জিম্মিদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল। জিম্মিদের মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছে তারা। সেই সঙ্গে নেতানিয়াহুকে জনসম্মুখে এসে বন্দিদের পরিত্যাগ করার দায় নিতে হবে বলেও জানায় দলটি। জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ী হাসাস নেতাদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দায়ীদের না ধরা পর্যন্ত বিশ্রাম নেবে না ইসরায়েল। আমরা তাদের খুঁজে বের করে জবাবদিহির আওতায় আনব।’ এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়া নেতানিয়াহুকে নিজের ভুল ও নাশকতার দায় স্বীকার করতে বলে হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলি ফোরাম নামের প্রতিনিধিত্বকারী দলটি। প্রতিবাদে গতকাল দেশটিতে অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। জিম্মিবিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত করতে সব ইসরায়েলিকে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়। বন্দিদের মুক্তি চূড়ান্ত করতে না পারায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন নেতানিয়াহু। জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় শোক প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ। তবে বন্দিদের হত্যা করার কথা অস্বীকার করেছে হামাস। গতকাল হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ইসরায়েলের চলমান বিমান হামলায় এই বন্দিদের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের শুরুতে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ফলে সাত বন্দি নিহত হয়েছিলেন। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সে হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়। জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় আরও ২৫০ জনকে। সেই হামলার জেরে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা। এমনকি শরণার্থীশিবিরগুলোও রক্ষা পায়নি ইসরায়েলের আগ্রাসন থেকে। ঘটনার পর থেকেই জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। গত বছরের নভেম্বরে গাজায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হামাস শতাধিক জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল। অন্য জিম্মিদের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সফলতা আসেনি।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিমতীরের জেনিনে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এরই মধ্যে জেনিনে ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬১ জনের। এই অভিযানে ৩ ইসরায়েলি পুলিশ নিহত হয়েছে। জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর এই বর্বরতার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত