জ্ঞানচর্চায় নারীর অবদান অনস্বীকার্য

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১৬ এএম

ইসলামের সূচনালগ্নে দ্বীনের প্রচার-প্রসারে পুরুষের ভূমিকা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি নারীর ভূমিকাও। নারীরা পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে জ্ঞানচর্চায় অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন। কিন্তু বর্তমান সমাজে নারীর অবস্থান ও মর্যাদাকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন। অথচ সোনালি যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাদের এই দাবির সত্যতা মেলে না। বরং তারা বিভিন্ন পেশায় পুরুষের মতোই অভূতপূর্ব যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ইসলাম প্রচার-প্রসারে নারীরা যে জ্ঞানচর্চা করে সোনালি ইতিহাস গড়ে গেছেন, তা উল্লেখ করা হলো।

জ্ঞানচর্চায় নারীর গুরুত্ব : মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নানাভাবে নারীদের জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করেছেন। জ্ঞানার্জনের বিষয়ে নারী-পুরুষের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অভিন্ন। এ মর্মে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। (ইবনে মাজাহ ২২৪)

এই হাদিসে জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে শোনার পর একবার নারীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আপনার কাছে পুরুষরা এত ভিড় লাগিয়ে থাকে যে, অনেক সময় আমাদের পক্ষে আপনার কথা শোনা সম্ভবই হয় না। অতএব আমাদের জন্য আপনি আলাদা একটি দিন ধার্য করে দিন। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিলেন। সেই দিন তিনি তাদের কাছে গিয়ে উপদেশ দিতেন এবং সৎকাজের নির্দেশ দান করতেন। (সহিহ বুখারি ৭৩১০)

জ্ঞানচর্চায় আনসারি নারীদের অবদান : আনসারি নারীরা যেমনিভাবে তাদের মুহাজির বোনদের নিজেদের ওপর প্রাধান্য দিতেন তেমনিভাবে পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে দ্বীনের গভীর জ্ঞানার্জনেও অনেক আগ্রহ রাখতেন। এই মর্মে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার আনসারি নারীদের প্রশংসা করে বলেন, আনসারি নারীরা কতই না উত্তম! লজ্জা কখনোই তাদের ধর্মের বিষয়ে জ্ঞানান্বেষণে বিরত রাখতে পারে না। (সহিহ মুসলিম ৭৭২)

বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা : সোনালি যুগে নবীপতœী হজরত আয়েশা (রা.)-সহ আরও অনেক প্রাজ্ঞ নারী সাহাবি ছিলেন। যাদের কাছে ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাই বিভিন্ন মাসয়ালা সমাধানের জন্য আসতেন। মহীয়সী নারীরা নিজেদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান দিয়ে তাদের সামনে সত্যকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। যা থেকে বুঝা যায় যে, কখনো কখনো অভিজ্ঞ সাহাবিরাও নারী সাহাবিদের কাছ থেকে শরিয়তের কঠিন ও জটিল মাসয়ালা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এমনকি জ্ঞান পিপাসা নিবারণের জন্যও দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক আসত। আায়েশা বিনতে তালহার বর্ণনায় এসেছে, প্রত্যেক শহর ও জনপদ থেকেই হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে লোক আসত। (সহিহ বুখারি)

নারীরাই যেন পুরো সমাজ। নবী যুগে অন্যান্য কর্মক্ষেত্রেও তাদের আগ্রহ ও উদ্দীপনার অভাব ছিল না। সমাজে নারীর অসামান্য অবদানের পরিপ্রেক্ষিতেই বিখ্যাত মুসলিম স্কলার ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, সমাজের অর্ধেকই নারী। বাকি অর্ধেকেরও জন্ম দেন নারী। সুতরাং মহান আল্লাহ আমাদের সমাজের নারীদেরও এভাবে গড়ে ওঠার তওফিক দান করুন। আমিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত