ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একটি বিমান আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানটি ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়ে অবৈধভাবে কিনে তাদের দেশ থেকে পাচার করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যালকন ৯০০-ইএক্স মডেলের বিমানটি ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র থেকে জব্দ করা হয়। এরপর সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কখন বিমানটি ডোমিনিকান রিপাবলিকে গিয়েছিল সেই বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে বিমানটি জব্দ করা হয়েছে।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, মাদুরোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ২০২২ সালের শেষদিকে ও ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছ থেকে বেআইনিভাবে বিমানটি কিনেছিলেন বলে একটি তদন্তে উঠে এসেছে। নিজেদের সম্পৃক্ততা আড়াল করতে একটি ক্যারিবিয়ান শেল কোম্পানিকে ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন সিএনএনকে বলেন, “বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের বিমান জব্দ করে আমরা একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছি যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, কেউ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঊর্ধ্বে নয়।‘
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘ভেনেজুয়ালায় অপশাসনের বিষয়টি নিকোলাস মাদুরো যেনো উপলব্ধি করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লুইস আবিনাদার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দ করা বিমানটি ভেনেজুয়েলা সরকারের নামে নিবন্ধিত নয়, বরং "একজন ব্যক্তির নামে" নিবন্ধিত ছিল।‘
তবে ডোমিনিকান রিপাবলিক কর্তৃপক্ষ বিমানটি জব্দ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে খুব বেশি সহায়তা করেছে।
সিএনএন জানায়, বিমানটি, ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্যারিবিয়ান হয়ে ভেনেজুয়েলায় অবৈধভাবে রপ্তানি করা হয়েছিল। এটি মাদুরোর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। রেকর্ডে দেখা যায় বিমানটির সর্বশেষ নিবন্ধিত ফ্লাইটটি ছিল গত মার্চ মাসে, কারাকাস থেকে ডোমিনিকান রাজধানী সান্টো ডোমিঙ্গোতে।
ভেনিজুয়েলা সরকার সোমবার এক বিবৃতিতে বিমান জব্দকে "দস্যুতা" হিসাবে অভিহিত করেছে। দেশটির অভিযোগ, গেলো জুলাইয়ে ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ওয়াশিংটন মাদুরোর সরকারের প্রতি আগ্রাসন বাড়াচ্ছে।
