৬০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি: শেখ সোহেলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম

খুলনায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই মামলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—(এলজিইডি) খুলনার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম মুহাম্মদ আনিছুজ্জামানসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আর ট্রেডার্সের মালিক শেখ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালত-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ পূর্বক করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনাডাঙ্গা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল অচেনা কিছু লোক বাদীর নগরীর শিববাড়ী মোড়স্থ ট্রিবিউন টাওয়ারের অফিসে এসে যুবলীগের পরিচয়ে বলে আপনাকে শেখ সোহেল (১নম্বর আসামী) এক্ষুনি দেখা করতে বলেছেন। সে মোতাবেক বাদী তখন ১ নম্বর আসামির বাড়িতে (শেখবাড়ি) গিয়ে দেখেন ১ ও ২ নম্বর আসামি পাশাপাশি বসা। বাদী সালাম দিয়ে সামনে দাঁড়ালে ১নম্বর আসামি বলে ‘তুই দুদকে আনিস সাহেবের নামে (২নম্বর আসামি) অভিযোগ দিয়েছিস, পিস্তল তোর পেছন দিয়ে ঢুকিয়ে ফায়ার করবো’। বাদি ১নম্বর আসামিকে বলেন, আমি দুদকে কোনো অভিযোগ করিনি । তখন ১নম্বর আসামি পিস্তল বের করে বাদির বুক সোজা ধরে বলেন, ‘দুদকে আনিস সাহেবের নামে যে অভিযোগ করেছিস, তার ঝামেলা মিটানোর জন্য কোটি টাকার প্রয়োজন। তুই ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিবি, বাকিটা আনিস সাহেব (২ নম্বর আসামি) জোগাড় করে দুদকে দেবে। যা এক্ষুনি টাকা নিয়ে আয়। বাদি উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যাংক থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা এবং নিজ অফিসে থাকা ২০ লাখ টাকা মোট ৬০ লাখ টাকা ১ ঘণ্টার মধ্যে তুলে বিকাল ৫টার মধ্যে শেখবাড়ি ১নম্বর আসামির কাছে নিয়ে দেন। ১ নম্বর আসামি টাকা নিজে গ্রহণ করে ২ নম্বর আসামির হাতে টাকা দিয়ে বাদীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, ‘এরপর বাড়াবাড়ি করবি লাশ চিতলমারী বিলে থাকবে, যা ভাইগে যা’। ২ নম্বর আসামি বলে, ‘এখন ৬০ লাখ টাকা নিলাম। লাগলে আরো দিবি, বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্র দিয়ে চালান দিয়ে দিবো।’ ২ নম্বর আসামি আরো বলে, ‘সেদিন ডিজিএফআই অফিসে তিন ঘণ্টা অন্ধকার রুমে ছিলি না। তোর লাশ কেউ খুজে পাবে না।’

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সময় শেখবাড়ির কথায় চলতো বাংলাদেশ। এ কারণে বাদী স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতের মামলা দায়েরের পরামর্শ প্রদান করেন। বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৩, ৩৮৪, ৩৮৭, ৩৮৮, ৩৮৯ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত