নিজের স্ত্রীকে প্রথমে নেশা করাতেন, এরপর অন্য পুরুষ দিয়ে তাকে ধর্ষণ করাতেন। আর এমন ঘটনা একবার–দুবার নয়, দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন ভয়ংকর ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে ৯২ বার। প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স ৭১ বছর। আর তার স্ত্রীর বয়স এখন ৭২ বছর।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান আসামি একটি শপিং মলে নিরাপত্তা প্রহরীদের কাছে ধরা খান। ওই সময় তিনি সেখানে তিনজন নারীর আপত্তিকর ছবি তুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এরপর যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, তারা ওই ব্যক্তির কম্পিউটারে এক নারীর শত শত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও খুঁজে পান। সেসব দেখে বোঝা যায়, ছবি–ভিডিওগুলো ওই নারীর সম্মতিতে তোলা হয়নি। আর ওই নারী ছিলেন অভিযুক্তের স্ত্রী।
ছবি ও ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, নিজের বাড়িতে ওই নারী দিনের পর দিন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাও নিজের স্বামী তাকে নেশা করিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন। ফ্রান্সের অ্যাভিগনোনের মাজান শহরে তাদের বাড়ি।
কৌঁসুলিরা বলেন, ধর্ষণের ঘটনার শুরু ২০১১ সালে। তখন ওই দম্পতি রাজধানী প্যরিসের পাশে বসবাস করতেন। পরে তারা মাজান শহরে চলে আসেন। সেখানে আসার পর বছর দুয়েক পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বামী ধর্ষণের সময় ছবি তুলে, ভিডিও করে রাখতেন। পরে সেসব দেখিয়ে অন্যদেরও একই কাজে উৎসাহিত করে ডেকে আনতেন।
আর এ জন্য অনলাইনে লোক ঠিক করতেন তিনি। এমনই ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে ফ্রান্সের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার তার বিচার শুরু হয়েছে। এ মামলা ফ্রান্সে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নেশা করানোর পর নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষ দিয়ে ধর্ষণ করানোর জন্য অনলাইনে যোগাযোগমাধ্যমে ৫০ জন ব্যক্তিকে জড়ো করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, এসব মানুষের মাধ্যমে ধর্ষণের ৯২টি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোট ৭২ জন। ৫১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে ধর্ষণের এসব ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের আগে তার মক্কেলকে কড়া ডোজের মাদক দিয়ে নেশা করানো হতো। তাই তার মক্কেল এসব ঘটনার বিষয়ে সচেতন ছিলেন না। যদিও এক জন ছাড়া অভিযুক্তদের কাউকেই চিনতে পারেননি তার মক্কেল। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে।
অভিযুক্তদের মধ্যে গাড়িচালক, দমকল কর্মকর্তা, একটি কোম্পানির শীর্ষকর্তা, এমনকি সাংবাদিকও রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বিবাহিত, কেউ অবিবাহিত, কেউবা তালাকপ্রাপ্ত। বেশির ভাগই একবার ধর্ষণ করেছিলেন। তবে কেউ কেউ ছয়বার পর্যন্ত এই অপরাধে জড়িয়েছিলেন।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ধর্ষণের ঘটনার সময় ভুক্তভোগীকে কড়া ডোজের নেশা করানো হতো। তার অবস্থা ছিল ঘুমানোর চেয়েও বেশি। অনেকটা কোমায় চলে যাওয়ার মতো।
প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৯১ সালে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে ১৯৯৯ সালে আবারও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হন তিনি।
আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম চলবে। দোষী সাব্যস্ত হলে ২০ বছরের জেল হবে তার। শাস্তি পাবেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলেই।
রাশিয়ার আরো গভীরে আঘাত করতে চায় ইউক্রেন
কারাগার ভেঙে পালানোর চেষ্টা, ডিআর কঙ্গোতে ১২৯ বন্দি নিহত