বেনজীরের চার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১ এএম

দুর্নীতির মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। দুবাই পুলিশ তার বিরুদ্ধে পাঠানো নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অন্তত চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা (কোয়ারি) চেয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত জবাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে দুদক। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আখতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

উপপরিচালক বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সরকার এবং দুদকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব ডকুমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর পর সম্প্রতি দুবাই পুলিশ থেকে কয়েকটা বিষয়ে ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যা দুদকে এসেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা শিগগিরই সেই জবাব পাঠাবেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করে। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ নোটিস ইস্যু করা হয়। পরে ইউএই কর্র্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। গত ১২ জুন আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশকে জানায়, ইউএইর ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত ও যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের সত্যায়িত বিভিন্ন নথি, আসামির পরিচয়, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের আদেশ সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর গত ১৬ জুন ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা বেনজীরের প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠায় দুদক।

দুদকের তথ্যমতে, বেনজীরের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়। এ ছাড়া পরিচয় গোপন করে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও একাধিকবার প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করে পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই মামলায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে এবং সেখানেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, মানিলন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি, বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দুবাইয়ের দুটি ফ্ল্যাট এবং ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়ে সেগুলো জব্দ করেছে দুদক। এখন দুবাই পুলিশের চারটি কোয়ারির জবাবের ওপরই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত