ববি ও বিএম কলেজ সংঘর্ষ, হাসপাতালে ভর্তি সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:১২ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত শিক্ষার্থীদের সবাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের, তাদেরকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৫০ জন। তবে এই হাসপাতালে বিএম কলেজের কোনো আহত শিক্ষার্থী নেই।

তবে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত রাতের হামলায় বিএম কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় ভোর পাঁচটা পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ। পরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা সমঝোতা স্বাক্ষর করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন।  দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মানববন্ধের ডাক দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে। নগরীর বটতলা এলাকায় সেসময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে মারধর করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর ববি শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং রাত ১১টার দিকে ওই দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পথে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বাসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে বাসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি হন।

এ হামলায় আহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান বলেন, মৃত্যু থেকে বেঁচে আসলাম। আমাদের ২৫-৩০ জনকে বাসের মধ্যে আটকে কুড়াল, দা, লাঠি দিয়ে ৩৫০-৪০০ বিএম কলেজর শিক্ষার্থী অতর্কিত হামলা করেছে। হাত জোড় করে কান্নাকাটির পরও থামেনি তারা।

এদিকে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা আরও দুটো বাস নিয়ে বরিশাল শহর অভিমুখে যাত্রা করে। এরপর রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী বিএম কলেজ এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দু’পক্ষের মধ্য দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়ে শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি হন। এরমধ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে রাখে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুচলেকা দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৭২ জনকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।’

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হক বলেন, ‘তিনটি বাস, প্রশাসনিক ভবন, হোস্টেল ও কলেজের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর হয়েছে। কতজন ছাত্র আহত হয়েছেন, তা এখনো জানতে পারিনি।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, আমরা তাদের সঙ্গে ছিলাম।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন, বিএম কলেজে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত