সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ফ্ল্যাট ক্রয়সহ ১০০ কোটি টাকায় বিলাসবহুল বাংলো নির্মাণ করেছেন। মিরপুর ডিওএইচএসে বাড়ি, ঢাকার নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর রোডে ‘আজিজ রেসিডেন্স’ নামের বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে দুদকের গোয়েন্দা শাখায় তথ্য পেয়েছে। এ ছাড়া তার ছোট ভাই তোফায়েল আহমেদ ও জোসেফের নামে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ও কয়েকশ বিঘা জমি কিনেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে তার দুই ভাইয়ের সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।
ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে দুদক। দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সময় ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমের মোট ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৮ টাকার সম্পদ ছিল। তিনি এমপি হওয়ার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে তাদের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৭ হাজার ২০২ টাকায়। আর গত পাঁচ বছরে তাদের সম্পদের
পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ টাকা। অর্থাৎ গত ১০ বছরে তাদের সম্পদ বেড়েছে ১২০ কোটি ৪৯ লাখ ১৫ হাজার ৭৭৫ টাকার। এ ছাড়া তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য দুদকের গোয়েন্দা শাখায় রয়েছে।
