চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া ব্যাপকভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জনমত প্রভাবিত করা এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এরই মধ্যে রুশ গণমাধ্যম আরটিসহ দেশটির গনণমাধ্যমের ১০ নির্বাহীর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া ক্রেমলিন-সংশ্লিষ্ট কিছু নিউজ পোর্টালের সম্প্রচারও সীমাবদ্ধ করেছে ওয়াশিংটন। এমনকি রুশ গণমাধ্যম আরটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
বুধবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড রুশ এই গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দেন বলে জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ গণমাধ্যম আরটির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক সংবাদ, ভুল তথ্য প্রচার এবং নির্বাচনের হস্তক্ষেপের দায়ে ফৌজদারি মামলা, ইন্টারনেট ডোমেইন আটক এবং নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এই নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগ ঘোষণা করেন।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন হ্রাস করা, রুশপন্থী নীতি ও স্বার্থকে শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের প্রভাবিত করা।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরটির প্রতি গুপ্তচরবৃত্তি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
মেরিক গারল্যান্ড বলেন, আরটির প্রধান মার্গারিটা সিমোনিয়ান মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। যদিও রুশ গণমাধ্যম আরটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, মস্কো আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের মধ্যে ভোটে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ফলাফল সুরক্ষিত করতে চেয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে চলতি বছরের জুন মাসে, ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত একদল হ্যাকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরে আক্রমণ চালিয়ে কিছু গোপন নথি ফাঁস করে।
এরপর, জুলাই মাসে, মার্কিন বিচার বিভাগ রুশ হ্যাকারদের দ্বারা পরিচালিত প্রায় এক হাজার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জব্দ করে এবং দুটি ডোমেইন নাম দখল করে। তারা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া বট ফার্ম তৈরি করে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া রাশিয়া ২০১৬ সালে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির ইমেইল হ্যাকিং এবং চুরি করা নথি উইকিলিকসে ফাঁস করার মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালে, রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বারোজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই প্রচেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয় এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারি করা হয়।
তবে মার্কিন এসব অভিযোগকে অস্বীকার জানিয়ে উপহাস করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো।
