রাজনীতি, পক্ষপাত, ক্রিকেট–অজ্ঞতা, পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৯ পিএম

খেলাধুলায় রাজনীতি পাকিস্তানের ক্রিকেটের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খারাপ পারফরম্যান্স খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে, যেখানে শীর্ষ পর্যায়ের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ মাঠের সফলতাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে। 

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে পাকিস্তান প্রায় ছয় দশকের মধ্যে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের সবচেয়ে খারাপ অবস্থান- আট-এ নেমেছে। ক্রিকেটপাগল দেশে এটি ছিল টানা দশম টেস্টে জয়হীন ম্যাচ। এর আগে গত বছরের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে প্রাথমিক থেকে লজ্জাজনক বিদায় হয়েছিলভাবে দলটির। 

গত দুই বছরে পাকিস্তান ক্রিকেট চারটি কোচ, তিনটি বোর্ড প্রধান, তিন জন অধিনায়ক এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ফরম্যাট নিয়ে এগিয়ে গেছে, বিশেষজ্ঞদের মতে যা  রাজনীতিবিদদের ইচ্ছাধীন অবস্থা। 'এসব বিষয় দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে' মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট সাংবাদিক ও পিসিবির সাবেক মিডিয়া ম্যানেজার আহসান ইফতিখার নাগি। তিনি বলেন, 'যখন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এবং স্থায়ী অস্থিতিশীলতা থাকবে, তা মাঠের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হবে।' 

‘আরোপিত স্বজনপ্রীতি’

ক্রিকেট পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, খেলোয়াড়রা জাতীয় নায়ক হিসেবে পূজিত হয়, শীর্ষ ব্র্যান্ড দ্বারা অনুমোদিত হয় এবং বড় ইভেন্টের সময় রাস্তাগুলো জনশূন্য হয়ে যায়। ২৪ কোটি জনসংখ্যার দেশে খেলাটিকে ব্যাপক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হিসেবে তার সাফল্য, ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্বদানের ওপর ভিত্তি করে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এখন তিনি কারাগারে। সেখান থেকে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, যারা তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে রেখেছেন, তাদের কারণেই ক্রিকেটের এই অবস্থা, 'ক্রিকেটের মতো টেকনিকাল খেলা পরিচালনার জন্য পছন্দের লোকদের চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোহসিন নাকভির যোগ্যতা কী?' ইমরানের দাবি, এই নাকভি তার দলকে "ধ্বংস" করেছেন, ' যখন দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য লোকদের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতায় রাখা হয় তখন জাতি ধ্বংস হয়।' 

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের একটি মুহূর্ত।

পাকিস্তানে স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইমরান দুর্নীতিবিরোধী নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রচার করেছিলেন, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসেন সামরিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায়। জাতীয় দলের অধঃপতনও সাবেক সুপারস্টারের ক্ষমতায় থাকার সময়ই দেখা দেয়, যখন ইমরান তার পছন্দের পিসিবি প্রধানকে নির্বাচিত করেন এবং খেলার ঘরোয়া ফরম্যাটে হস্তক্ষেপ করেন।

‘ক্রিকেটজ্ঞানহীন পিসিবি প্রধান’

'পিসিবি প্রধান' পদটিতে তিনবার থাকা নাজম শেঠি মনে করেন এই পদটার জৌলুশ বেশি, কিন্তু কাজ নেই কোনো। 'জেনারেল, বিচারক এবং আমলারা, কেবল খেলার প্রতি ভালোবাসার জন্য নিয়োগ পেয়েছেন, কিন্তু খেলার কোনো জ্ঞান নেই তাদের। আবার ক্রিকেট জ্ঞান আছে, কিন্তু পরিচালনার দক্ষতা না থাকাদেরও নিয়োগ দেয়ে হয়েছে।' 

পাকিস্তানের সর্বশেষ বড় জয় ছিল ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তারা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে কোন টেস্ট ম্যাচ জিতেনি। তাদের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো। ২০২৪ সালের ইভেন্টে তারা প্রথম রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র এবং আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছে হেরে বাদ পড়ে। বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের ফলে নাকভি এবং তাকে নিয়োগের ব্যবস্থা নিয়ে সংসদ ও সংবাদমাধ্যমে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে, তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। একটি পত্রিকা লিখেছে, 'তারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা মূলত নিজেদের সুরক্ষা এবং আসন রক্ষা করা, বা দেশের ক্রিকেট থেকে ভালো অর্থ উপার্জন করা।'

তবুও নাকভির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সমর্থন আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত