চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিনেই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয়েছিল ১৩ বছরের কিশোরী স্বর্ণা দাশ। ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সীমান্ত হত্যার মতো জঘন্য কাজের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আহ্বানের এক সপ্তাহের মধ্যেই গতকাল সোমবার ভোরে বিএসএফের গুলিতে নিহত হলো আরেক কিশোর। এবার ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে। নিহত ওই কিশোরের নাম জয়ন্ত কুমার সিংহ (১৫)। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জয়ন্ত কুমার সিংহ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ফকিরভিটা বেলপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব কুমার সিংহের ছেলে। এ ঘটনায় মহাদেব কুমার সিংহ ও নিটালডোবা গ্রামের দরবার আলী নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল ভোরে ধনতলা সীমান্ত এলাকার ৩৯৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকা দিয়ে একদল লোক স্থানীয় দালালের সহযোগিতায় ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভারতের কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের ডিঙ্গাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে জয়ন্ত ঘটনাস্থলে মারা যায়। বিএসএফের সদস্যরা তার লাশ নিয়ে যান। গুলিতে আহত মহাদেব কুমার সিংহ ও দরবার আলীও বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসেন। পরে স্বজনরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান, বিএসএফের গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মরদেহ এখনো বিএসএফের কাছে রয়েছে। ওই ঘটনায় দুজন আহত হয়ে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহমদ বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহতের খবর শুনেছি। এটি যাচাই করতে আমাদের টিম কাজ করছে। আমরা মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছি।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে স্বর্ণা দাশ প্রাণ হারায় ১ সেপ্টেম্বর। গত ৫ সেপ্টেম্বর তার নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘নির্মম’ উল্লেখ করে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে এক প্রতিবাদপত্র পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়, সীমান্ত হত্যার এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত ও অযৌক্তিক। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সীমান্ত কর্র্তৃপক্ষের জন্য ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নির্দেশিকা, ১৯৭৫ সালের বিধানের লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের জঘন্য কাজের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সব সীমান্ত হত্যার তদন্ত পরিচালনা, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
এরপর ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, সীমান্তে যারা হত্যার শিকার হন, তারা কেউই ভারতের ভূমি দখল করতে যান না। তিনি সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুরতা’ বলেও আখ্যা দেন।
