সড়কজুড়ে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০৮ এএম

রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। এতে পুরো সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এফডিসি এলাকায় চলে আসলেও কারওয়ানবাজার পার হতেই ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি সড়কে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বাস, মিনি বাস ও ট্রাক সড়কের পাশে স্ট্যান্ড করে রাখা হয়। এসব বাসে মূলত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনা নেওয়া করা হয়। নির্ধারিত গন্তব্য থেকে সকালে যাত্রী আনার পর বিকাল পর্যন্ত এই বাসগুলো এখানেই স্ট্যান্ড করে থাকে। ফলে দুই পাশের সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই অবৈধ বাসস্ট্যান্ডের জন্য এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ইউটার্ন নিয়ে এফডিসি সড়ক থেকে কারওয়ান বাজার যাওয়া গাড়িগুলোকে পড়তে হয় বিপাকে। অন্যদিকে হাতরিঝিল থেকে আসা কারওয়ান বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়া যাত্রীদের যানজটে পরতে হয়। এই যানজটের প্রভাব পরে আশেপাশের সব এলাকায়।

বুধবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়বুধবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে আসা এক প্রাইভেটকারের যাত্রী মো. মানিক রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বাসা উত্তরা এলাকায়। বিমানবন্দর থেকে  এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে আসতে ২০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। কিন্তু র‌্যাম্প পার হতেই লেগে গেছে ৩০ মিনিট। এখন ইউটার্ন নিয়ে এফডিসির সড়কে আরো ৩০ মিনিট হয়ে গেল। তবুও কারওয়ান বাজার পৌঁছাতে পারিনি।’

কারওয়ান বাজার থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়া মোটরসাইকেল চালক নিরব হাসান বলেন, ‘বাংলামোটর সড়কে জটলা থাকায় এফডিসির সড়ক দিয়ে যাত্রাবাড়ী যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এফডিসি সড়কে এসে ঝামেলায় পরে গেছি। তাছাড়া এখন আগের মতো ট্রাফিক নেই। ফলে যানজট লাগলেও খুব সহজে সমাধান হয় না।’

সিএনজি অটোরিকশাচালক হাশেম মিয়া বলেন, ‘গুলশান ২ থেকে বসুন্ধরা মার্কেটে যাবেন এমন এক যাত্রী নিয়েছি। হাতিরঝিল পর্যন্ত সহজে আসলেও এফডিসির সড়ক পার হতে এক ঘণ্টার মতো লেগে যাচ্ছে। মূলত পুরো রাস্তাজুড়ে বাস রাখা হয়েছে। এই বাসগুলোর জন্য অর্ধেকের বেশি সড়ক দখল হয়ে আছে। আমি ৪০ মিনিট ধরে বসে আছি। তারপরও এতটুকু সড়ক পার হতে পারলাম না।’

এদিকে এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের একটি গাড়ির চালক সুরুজ মিয়া জানান, এখানে স্ট্যান্ড করা যেসব বাস আছে এগুলো বেশিরভাগ চুক্তিভিত্তিক গাড়ি। আবার কিছু বাস এই এলাকার কিছু কোম্পানির নিজস্ব। এগুলো অফিসের সামনে রাখা যায় না বলে সড়কে রাখা হয়। এখন অন্য কোথাও জায়গা না থাকায় এখানে বাধ্য হয়ে এখানে গাড়ি রাখতে হচ্ছে বলে জানান এই চালক।

আশুলিয়ায় আজও বন্ধ ৪০ কারখানাআশুলিয়ায় আজও বন্ধ ৪০ কারখানা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজার এলাকায় এক ট্রাফিক সার্জেন্ট দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্টাফ বাসগুলোকে বারবার নিষেধ করার পরও তারা এখানে পার্কিং করে। আগে মামলা দেওয়া হত। কিন্তু তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে এই পার্কিং করে। আবার কিছু বলতে গেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৫ আগস্টের আগে সিটি করপোরেশন থেকে অভিযান চালানো হত। কিন্তু এখন আবার বাসগুলো সড়ক দখল করে আছে। তাছাড়া এখন আগের মতো পুলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ওপর থেকে অর্ডার আসলে আবার অভিযান চালানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত