এই দল বিশ্বকাপে খেলতে পারবে তো!

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:২৯ এএম

টানা তিন হারের পর একটি ম্যাচ জিতেই ব্রাজিলের কোচ দরিভাল জুনিয়রের মুখে কথার খই ফুটেছিল। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলব। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত। আমার কথাটা মনে রাখুন। এই কথা যখন বলছি, চাইলে ভিডিও করেও রাখতে পারেন।’

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দরিভালের এই কথা শুনে ব্রাজিল সমর্থকরা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন বলে কি লোকটা, বাস্তবতা কি বুঝতে পারছেন না কোচ! দলটার কী বাজে অবস্থা তা আরেকবার প্রমাণ হয়েছে মাঠে। অ্যাসানসিওনে মঙ্গলবার স্বাগতিক প্যারাগুয়ের কাছে হেরে গেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ফাইনাল দূরে থাক, চূড়ান্তপর্বে খেলাটাই কঠিন করে তুলেছে এই হার।

প্যারাগুয়ে-ব্রাজিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ চলার সময়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছিল, ব্রাজিলের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বাজে দল কি না? অথচ মাঠে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, লুকাস পাকেতা, আলিসনের মতো ইউরোপ মাতানো তারকারা। রক্ষণে মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল, দানিলোরাও ইউরোপের রণাঙ্গনে পরীক্ষিত। কিন্তু ২০ মিনিটে ব্রাজিলের এই রক্ষণভাগকে মোটামুটি দর্শক বানিয়ে গোল করেছেন প্যারাগুয়ে মিডফিল্ডার দিয়েগো গোমেজ।

ব্রাজিলের রক্ষণ থেকে হেডে ক্লিয়ার করা বল বক্সের বাইরে একটু সামনে পেয়ে গিয়েছিলেন গোমেজ। একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন! ব্রুনো গিমারেজ বেশ দূরত্ব বজায় রেখে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেটি করা আর না করার মধ্যে আসলে তেমন কোনো পার্থক্য নেই! গোমেজ এই সুযোগে বলটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে লুকা মদ্রিচের মতো বুটের ডগা দিয়ে ট্রিভেল্লা শটে বল ব্রাজিলের জালে জড়ান। আলিসন ডাইভ দিয়েও বলটা ছুঁতে পর্যন্ত পারেননি। পোস্টে লেগে গোল হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এই গোলকে পুঁজি করেই জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। ২০০৮ সালের পর রাজধানীতে এই প্রথম ব্রাজিলকে হারাল তারা। ২০০৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৭১ ম্যাচ খেলে মাত্র ৫টিতে হেরেছিল ব্রাজিল। কিন্তু এবারের বাছাইয়ে ৮ ম্যাচেই হারল চার ম্যাচ। দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইয়ে এই পর্যায় (৮ রাউন্ড) কখনো এত বাজে শুরু করেনি ব্রাজিল।  ৮ ম্যাচে তাদের ১০ পয়েন্ট। অক্টোবরে চিলির বিপক্ষে নবম ম্যাচে ধরে নেওয়া যাক ব্রাজিল জিতল। ৯ ম্যাচে পয়েন্ট হবে ১৩। অর্থাৎ ১৮ ম্যাচের অর্ধেক পথ পেরিয়ে ১৩ পয়েন্ট। সবগুলো বিশ্বকাপ চূড়ান্তপর্বে খেলা ব্রাজিল কখনো বাছাইপর্বের অর্ধেক পথে এতটা খারাপ করেনি আগে।

এমন অবস্থার কারণ কী? ব্রাজিল অধিনায়ক মার্কিনহোস বলেছেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবের কথা, ‘এই মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসটা নেই আমাদের। ম্যাচ জিতে তাই আত্মবিশ্বাস তুলে নিতে হবে। সর্বশেষ ম্যাচে আমরা এটাতেই গুরুত্ব দিয়েছি, কিন্তু আজ তা (আত্মবিশ্বাস) তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েছি। বাছাইপর্ব কত কঠিন সেটা আমরা জানি।’

আত্মবিশ্বাস তুলে নেওয়ার পথটাও বলেছেন ব্রাজিলের এই ডিফেন্ডার, ‘দল হিসেবে খেলতে হবে আমাদের, একে অপরের সঙ্গে সংহতি বাড়াতে হবে। আমরা যেন একে অপরকে সমর্থন দিই, আমার মতে এভাবেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া সম্ভব। সেটা ম্যাচ জেতার মাধ্যমে এবং দল হিসেবে ভালোও খেলতে হবে।’

আর ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে ব্রাজিল’ বলে সমালোচনার মুখে পড়া দরিভাল পরাজয়ের দায় নিয়ে বলেছেন, ‘আমি কোনো খেলোয়াড়কে শাস্তি দিতে চাই না। তবে আমাদের কাজ করতে হবে এবং বুঝতে হবে, আমরা সবাই যে পর্যায়ে যেতে চাই সেখানে পৌঁছাতে আমাদের আরও বেশি (পরিশ্রম) প্রয়োজন... গোল হজমের মুহূর্ত থেকেই আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিলাম।’

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী মাসে দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। আগামী ১০ অক্টোবর তাদের প্রতিপক্ষ চিলি। চার দিন পর পেরুর মুখোমুখি হবে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত