দেশে বিদ্যুতের চলমান লোডশেডিং স্বাভাবিক হতে আরও তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সভাকক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল অচল থাকা, বকেয়ার কারণে ভারতের আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া, ডলার সংকটসহ নানা কারণে দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে।
লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে ফাওজুল কবির বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে রামপালের একটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঠিক থাকলে এই সংকট সামাল দেওয়া সহজ হতো। কিন্তু সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিকল থাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘টার্মিনাল নষ্ট হওয়ায় এলএনজি আমদানি করা যাচ্ছিল না। টার্মিনালটি ইতিমধ্যে ঠিক হয়েছে। এখন এলএনজি আমদানির কাজ চলছে। বিদেশ থেকে এই এলএনজি আসতে প্রায় ২০ দিনের মতো সময় লাগবে। তারপর গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। গ্যাস সংকটের কারণে শুধু আমরা না, শিল্প, সার কারখানা সব জায়গায় সমস্যা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রামপাল দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতি হবে।’
এদিকে লোডশেডিং প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান তার দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবারের তুলনায় আজ (গতকাল) বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এদিন দুপুরের দিকে এক হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছে। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে পাম্পটি বিকল হয়েছে, সেটি বিমানে করে চীন থেকে আনা হচ্ছে। রবিবারের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল ইউনিট দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
